খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে চৈত্র ১৪৩২ | ৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নানা বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেনকে ঝিনাইদহের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্প্রতি ঝিনাইদহে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে একটি অডিও বক্তব্য, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগের মধ্যে ছিল অকারণে তিরস্কার, ভুয়া প্রকল্প তৈরির নির্দেশ এবং অনৈতিক দাবি পূরণে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি। তিনি আরও দাবি করেন, এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করার কারণেই ঈদুল ফিতরের ঠিক দুই দিন আগে তাকে হঠাৎ করে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বদলি করা হয়।
অডিওতে হোসনে আরা তার ব্যক্তিগত সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার শিশুকন্যা গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই বক্তব্য জনমনে সহানুভূতি ও ক্ষোভ—উভয়ই সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। হোসনে আরাকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং জনমতের চাপের মুখে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদকেও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, ভাইরাল অডিওকে কেন্দ্র করে গত ২৮ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুটি প্রোফাইল ও একটি পেজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন জেলা প্রশাসক। তিনি দাবি করেন, অডিওটি সম্পাদনা করে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে এবং এতে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, অডিও প্রকাশের পর হোসনে আরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা পুরো ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
নিচে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযুক্ত কর্মকর্তা | আবদুল্লাহ আল মাসউদ (জেলা প্রশাসক) |
| অভিযোগকারী | হোসনে আরা (সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) |
| মূল অভিযোগ | অনৈতিক চাপ, ভুয়া প্রকল্পের নির্দেশ, অযৌক্তিক তিরস্কার |
| গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা | অডিও বক্তব্য ভাইরাল |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | উভয় কর্মকর্তার বদলি/প্রত্যাহার |
| জেলা প্রশাসক পরিবর্তন | মো. নোমান হোসেন নতুন জেলা প্রশাসক |
সার্বিকভাবে, এই ঘটনাটি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা, নৈতিকতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হয় এবং প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।