খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন করে ঝুঁকির মানসিকতা ফিরে এসেছে। এরই প্রভাবে বুধবার ইউরোপের বাজারে শুরুর দিকেই মার্কিন ডলারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ডলার বিক্রি করে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সকাল আটটা দশ মিনিটের দিকে ইউরোপীয় বাজারে ডলারের দর ইউরোর বিপরীতে প্রায় এক দশমিক এক শতাংশ কমে দাঁড়ায় এক ইউরোর বিপরীতে এক দশমিক সতেরো ডলার। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের মান প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ কমে দাঁড়ায় এক পাউন্ডের বিপরীতে এক দশমিক চৌত্রিশ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। সাধারণত যুদ্ধ, সংঘাত বা বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় ডলারকে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির খবর সেই চাহিদা হ্রাস করেছে, যার ফলে ডলারের ওপর বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরো এবং পাউন্ড সাময়িকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার ওপর।
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি হয়তো দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নয়, বরং স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়া। কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতি, সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির তথ্যও ডলারের মূল্যে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশ আরও বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর যদি জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে, তাহলে ইউরোপীয় অর্থনীতিও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাধারণত তেল সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে, যা ইউরোপীয় মুদ্রার শক্তি-দুর্বলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
নিচে প্রধান মুদ্রাগুলোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| মুদ্রা জুটি | আগের অবস্থার তুলনায় পরিবর্তন | বর্তমান হার |
|---|---|---|
| ডলার বনাম ইউরো | প্রায় এক দশমিক এক শতাংশ পতন | এক ইউরো = এক দশমিক সতেরো ডলার |
| ডলার বনাম পাউন্ড | প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ পতন | এক পাউন্ড = এক দশমিক চৌত্রিশ ডলার |
বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক খবর, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে আগামী কয়েক দিনে মুদ্রাবাজারে আরও ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।