ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আকস্মিকভাবে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা কাটিয়ে তীব্র দরপতন দেখা দিয়েছে। দুই সপ্তাহ মেয়াদি এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়, যার প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়ায়। এই পতনকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দৈনিক দরপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ইরানের তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায়, সেখানে যে কোনো ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির খবর বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও এই পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোলমস বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক অন্যান্য শক্তির অবস্থান বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ব্যবধান এখনো অনেক বড়। তাই বাজার বর্তমানে একটি অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা নতুন কোনো উত্তেজনা তৈরি হয় কি না তা পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক দর পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—
| তেলের ধরন |
আগের দাম (ডলার/ব্যারেল) |
বর্তমান দাম (ডলার/ব্যারেল) |
পরিবর্তনের হার |
| মার্কিন অপরিশোধিত তেল |
প্রায় ১১২.৬০ |
৯৪.৫৯ |
প্রায় ১৬ শতাংশ পতন |
| ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল |
প্রায় ১০৮.৬০ |
৯২.৩৫ |
প্রায় ১৫ শতাংশ পতন |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বল্পমেয়াদে স্বস্তির হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নির্ভর করবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতার ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো নতুন উত্তেজনা আবারও তেলের বাজারে দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।