খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল গায়েব হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মের্সাস সোয়াদ ফিলিং স্টেশন নামের ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোলের ঘাটতি ধরা পড়ার পর প্রশাসনের তদন্তে বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যার পরিণতিতে পাম্পের মালিক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অনৈতিক কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতেই এ কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শন করে পেট্রোলের বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত করে। পরিদর্শনের সময় নথিপত্র ও মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, ঘোষিত মজুদের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার বড় ধরনের অমিল রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়।
ঘটনার রাতেই সংশ্লিষ্ট থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জলিল হোসেন রিফাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পেট্রোল গায়েবের পেছনে সম্ভাব্য অনিয়ম, মজুদ লুকানোর কৌশল এবং হিসাব গরমিলের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। কেউ কেউ দাবি করেছেন, নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ ও মজুদের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যেত, তবে এত বড় পরিমাণ ঘাটতির ঘটনা আগে প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসনের আকস্মিক অভিযানে বিষয়টি উন্মোচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
নিচে ঘটনার একটি সময়রেখা দেওয়া হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৭ এপ্রিল | জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান |
| ৭ এপ্রিল রাত | বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের |
| ৭ এপ্রিল রাত | ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার গ্রেপ্তার |
| ৮ এপ্রিল | রাজনৈতিক দলীয় সিদ্ধান্তে মালিককে বহিষ্কার ঘোষণা |
ঘটনার পর এলাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং জ্বালানি খাতে আস্থার সংকট তৈরি করে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সব মিলিয়ে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েবের এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।