খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এ হাসপাতালে হামের উপসর্গে মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, একই সময়ে নতুন করে আরও ২৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩৩ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১০ জন শিশু। তবে নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, একই সময়ে একজন শিশু, যার শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে, তার মৃত্যুও রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও সতর্ক পর্যায়ে রয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শিশুদের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকাদানে ঘাটতি থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ডা. শংকর কে বিশ্বাস আরও বলেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য নবজাতকদের মায়ের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাস বয়সের পর সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী সময়মতো টিকা প্রদান করা অপরিহার্য।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, সারা শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিটে চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আলাদা শয্যা ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে।
নিচে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রধান তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো—
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| নতুন ভর্তি শিশু | ২৩ জন |
| মোট চিকিৎসাধীন শিশু | ১৩৩ জন |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা | ১০ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ৩ জন |
| মোট মৃত্যু (উপসর্গসহ) | ৪৬ জন |
| মোট ভর্তি রোগী | ৪৫২ জন |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করা গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।