সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান সংশ্লিষ্ট এক ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মাদক আনতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সময় ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের ছোড়া গুলিতে তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে। সীমান্তবর্তী চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় এ সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনাটি নিয়ে নিশ্চিত করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৪৮তম ব্যাটালিয়ন, সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নিহত ব্যক্তির নাম সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজার এলাকার কারবালারটুক গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র অনুযায়ী, সালেহ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।
ঘটনার সময় সালেহ আহমেদের সঙ্গে আরও দুইজন সহযোগী ছিলেন। তারা হলেন নাজিরগাঁও গ্রামের মো. সুমন মিয়া (২৫) এবং কারবালারটুক গ্রামের মো. মাসুম আহম্মদ (২০)। তারা তিনজনই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে একটি মাদকের চালান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন বলে সীমান্ত সূত্র জানিয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সুপারি বাগান এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য তাদের সুপারি চোর সন্দেহ করে ছররা বন্দুক থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সালেহ আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর জীবিত দুই সহযোগী সালেহ আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
নিম্নে ঘটনাটির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| নিহত ব্যক্তির নাম |
সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) |
| আহত/সহযোগী |
মো. সুমন মিয়া (২৫), মো. মাসুম আহম্মদ (২০) |
| ঘটনার স্থান |
সিলেট-ভারত সীমান্ত, কোম্পানীগঞ্জ সংলগ্ন এলাকা |
| সময় |
বৃহস্পতিবার, রাত সাড়ে ৮টার দিকে |
| ঘটনার কারণ |
চোরাচালান উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম |
| হামলাকারী |
ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা |
| অস্ত্রের ধরন |
ছররা বন্দুক |
| ফলাফল |
সালেহ আহমেদের মৃত্যু |
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৪৮তম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানিয়েছেন, মাদক আনার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিহতসহ সংশ্লিষ্ট তিনজনই সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।