কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। আটক নারীর নাম রওশন আরা বেগম (৫০)। তিনি নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত মহব্বত আলীর স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াগাঁও এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি গোপন চক্র সক্রিয় ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতে নিকলী থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে থানার সেকেন্ড অফিসার রোমান খান, এসআই শরীফুজ্জামানসহ একদল পুলিশ সদস্য অংশ নেন। রাতের দিকে আকস্মিকভাবে রওশন আরার বাড়িতে অভিযান চালানো হলে তার ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা ৭৮২ পিস। পাশাপাশি নগদ ২২ হাজার ৫০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব অর্থ মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত রওশন আরা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একজন চিহ্নিত কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগেও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযানের পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা ছিল এবং রাতে অচেনা মানুষের যাতায়াত লক্ষ্য করা যেত। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক চক্র নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিকলী থানায় রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিবরণ
| ক্রম |
জব্দকৃত সামগ্রী |
পরিমাণ |
| ১ |
ইয়াবা ট্যাবলেট |
৭৮২ পিস |
| ২ |
নগদ টাকা |
২২,০৫০ টাকা |
| ৩ |
মোবাইল ফোন |
১টি |
পুলিশ বলছে, আটক নারীর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও মাদক সরবরাহ চক্র শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।