খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদি সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে চারটি স্বর্ণের বারসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সীমান্তের পাঁচ কবর নামক এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য পাচার রোধে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবেই এ অভিযান সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তির নাম শ্রী সমর হালদার (২৭)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের গোপাল হালদারের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে ধারণা করছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধীন বারাদি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল আগেই পাঁচ কবর এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্তপথে সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়।
প্রায় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে একজন ব্যক্তি বাইসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে তাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে তিনি নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করতে সক্ষম হন।
আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে সবুজ রঙের টেপে মোড়ানো একটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। পরে পোটলাটি খুলে চারটি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ৪৫২ গ্রাম।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৬ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত একটি বাইসাইকেল এবং একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে, যা চোরাচালান কার্যক্রমে যোগাযোগ ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আটক ব্যক্তির নাম | শ্রী সমর হালদার (২৭) |
| ঠিকানা | পারকৃষ্ণপুর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা |
| উদ্ধারকৃত স্বর্ণ | ৪টি বার |
| মোট ওজন | ৪৫২ গ্রাম |
| আনুমানিক মূল্য | ৯৬,০৯,৫২০ টাকা |
| অন্যান্য জব্দকৃত সামগ্রী | ১টি মোবাইল ফোন, ১টি বাইসাইকেল |
| অভিযানকারী সংস্থা | ৬ বিজিবি, বারাদি বিওপি |
চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। ভারত সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে ছোট-বড় একাধিক চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এসব চক্র সাধারণত স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করে স্বল্প পারিশ্রমিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সীমান্ত পারাপার করায়।
বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (র্যাপিড রেসপন্স টিম) ব্যবহারের মাধ্যমে চোরাচালান অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করায় বড় ধরনের স্বর্ণ পাচার প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও অন্যান্য আলামত যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও অপরাধচক্রগুলো ক্রমাগত নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। ফলে শুধুমাত্র অভিযান নয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বারাদি সীমান্তে বিজিবির এই সফল অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের সক্রিয় ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।