চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা দেশীয় মুদ্রায় একটি বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ নিশ্চিত করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এসেছে ২৪ কোটি ডলারের বেশি, যা মাসের শুরুতেই প্রবাহ বৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের এই প্রবাহ অনেক বেশি। গত বছর এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ১০৩ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। ওই মাসে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। আগের বছরের মার্চের তুলনায় এই প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি ছিল।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, একাধিক কারণ এই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে যে সুবিধা ও প্রণোদনা ব্যবস্থা রয়েছে, তাও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পোশাক খাতের পর বৈদেশিক আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে এটি দেশের অর্থনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল |
রেমিট্যান্স প্রবাহ (মার্কিন ডলার) |
তুলনামূলক অবস্থা |
| এপ্রিলের প্রথম ১১ দিন (চলতি বছর) |
১২০ কোটি ডলারের বেশি |
উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
| এপ্রিলের প্রথম ১১ দিন (গত বছর) |
প্রায় ১০৩ কোটি ডলার |
তুলনামূলক কম |
| মার্চ (চলতি বছর) |
প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার |
ইতিহাসে সর্বোচ্চ |
| মার্চ (গত বছর) |
তুলনামূলকভাবে কম |
১৪ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধি |
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকলে চলতি মাসেও রেমিট্যান্স নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসীদের আয়ক্ষমতার ওপর ভবিষ্যৎ প্রবাহ অনেকাংশে নির্ভর করবে।