খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় বীমা প্রতিষ্ঠান কিয়োবো লাইফ ২০২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যদিও তাদের মূল বীমা ব্যবসায় দুর্বলতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭৬৩.২ বিলিয়ন কোরিয়ান ওন), যা আগের বছরের তুলনায় ৯.২ শতাংশ বেশি।
তবে এই প্রবৃদ্ধি মূল ব্যবসার শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে নয়, বরং সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগজনিত ক্ষতি কমে যাওয়ার ফলেই সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ ধরনের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ০.২ বিলিয়ন ডলার (২৭৯ বিলিয়ন ওন), ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ০.১ বিলিয়ন ডলার (১১৯ বিলিয়ন ওন)। ফলে সামগ্রিক নিট মুনাফা বাড়লেও মূল ব্যবসার ভেতরের চাপ রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বীমা কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে বীমা মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ০.৩ বিলিয়ন ডলার (৩৯১.৬ বিলিয়ন ওন), যা আগের বছরের তুলনায় ১৭.৩ শতাংশ কম। এই পতন মূলত বীমা সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছে।
যদিও সেবা খাত থেকে আয় ৮.৪ শতাংশ বেড়েছে, তবে একই সময়ে বীমা সেবা ব্যয় ১১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৭ বিলিয়ন ডলারে (৪ ট্রিলিয়ন ওন) পৌঁছেছে। ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ‘অনরস কনট্রাক্ট’ বা লোকসানজনক চুক্তির স্বীকৃতি এবং অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমানে নেতিবাচক পরিবর্তনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ দায় এবং ঝুঁকির হিসাব পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়েছে, যা মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করেছে।
নিম্নে কিয়োবো লাইফের আর্থিক সূচকের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| সূচক | ২০২৪ অর্থবছর | ২০২৫ অর্থবছর | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| নিট মুনাফা | ০.৪৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায়) | ০.৫ বিলিয়ন ডলার | +৯.২% |
| বীমা মুনাফা | ০.৩৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায়) | ০.৩ বিলিয়ন ডলার | -১৭.৩% |
| সহযোগী ক্ষতি | ০.২ বিলিয়ন ডলার | ০.১ বিলিয়ন ডলার | হ্রাস |
| সেবা আয় | — | +৮.৪% বৃদ্ধি | — |
| সেবা ব্যয় | — | ২.৭ বিলিয়ন ডলার | +১১.৮% |
| বিনিয়োগ মুনাফা | ০.৫ বিলিয়ন ডলার | ০.৫ বিলিয়ন ডলার | প্রায় অপরিবর্তিত |
বিনিয়োগ খাতেও তেমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ থেকে আয় প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ০.৫ বিলিয়ন ডলারে স্থির রয়েছে। আয় বাড়লেও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকৃত মুনাফা বাড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কিয়োবো লাইফের এই আর্থিক ফলাফল একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরে—একদিকে নিট মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও অন্যদিকে মূল বীমা ব্যবসায় চাপ ও দুর্বলতা স্পষ্ট। বিশেষ করে অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমানের পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ চুক্তিগুলোর স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোম্পানিটির পারফরম্যান্স মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমত, অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দ্বিতীয়ত, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পারফরম্যান্স কেমন থাকে। পাশাপাশি, ‘ল্যাপস রিস্ক’ বা পলিসি বাতিলের ঝুঁকি সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সুবিধা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার গতি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, কিয়োবো লাইফের মুনাফা বৃদ্ধি আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক হলেও এর পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ব্যয়জনিত চাপ ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা বহন করছে। তাই টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কোম্পানিটিকে মূল ব্যবসার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে।