খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর তুরাগ এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মোবাইল চোরাচালান ও যন্ত্রাংশ ব্যবসা চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগ। বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং মোবাইল তৈরির ও মেরামতের বিভিন্ন যন্ত্রাংশসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সুসংগঠিত চক্র, যারা দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ও মোবাইল পার্টস আমদানি ও বাজারজাত করছিল।
গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তুরাগ থানাধীন রূপায়ণ সিটি গ্র্যান্ড ব্লক-এ একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় শাহরিয়ার হাসান সরকার রাজা (২৬), মো. রনি মিয়া (২৪) এবং শ্রী নয়ন চন্দ্র সূত্রধর (১৯) নামে তিনজনকে।
অভিযান শেষে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪৪২টি মোবাইল ফোন, ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং বিপুল পরিমাণ মোবাইল যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল খোলার ও মেরামতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন ও প্রিন্ট করার মেশিনসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা সরঞ্জাম।
নিচে উদ্ধারকৃত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| শ্রেণি | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| মোবাইল ফোন | ৪৪২টি |
| নগদ টাকা | ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা |
| ল্যাপটপ | ৫টি |
| মোবাইল ডিসপ্লে | ৭৪০টি |
| ব্যাক কভার | ২,১৯০টি |
| চার্জার ক্যাবল | ৫৪০টি |
| মোবাইল ব্যাটারি | ১,০০০টি |
| খালি মোবাইল বক্স | ৩,৫০০টি |
| হেডফোন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ | উল্লেখযোগ্য পরিমাণ |
| বিশেষ যন্ত্রপাতি | আইএমইআই প্রিন্টার, স্পিড মিটার, হিট মেশিন ইত্যাদি |
ডিএমপি সূত্র জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে আমদানি করত। এরপর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হতো। তারা পুরোনো ও নতুন যন্ত্রাংশ একত্র করে কম দামে বিক্রির মাধ্যমে বাজারে প্রতারণামূলক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তারা জানায়, একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনা, গুদামজাত করা এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হতো। চক্রটি প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হওয়ায় মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন জালিয়াতি কার্যক্রমও চালাত।
পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রটি শুধু অবৈধ বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নিম্নমানের ও পুনঃসংযোজিত মোবাইল বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণারও শিকার করছিল। এতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছিলেন।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রযুক্তিপণ্য ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে মোবাইল যন্ত্রাংশের আড়ালে চলা শুল্ক ফাঁকি ও জালিয়াতি রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে এই অভিযান রাজধানীতে সক্রিয় একটি বড় চোরাচালান নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তারা আশা করছেন, তদন্ত এগোলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বড় নেটওয়ার্কের তথ্য বেরিয়ে আসবে।