খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি অভিযানে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি অনলাইন প্রতারণা ও পরিকল্পিতভাবে একাধিক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য জানান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাব্বি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর পরিচয় ব্যবহার করে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। পরে তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে, বিশেষ করে উপহার পাঠানোর কথা বলে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনতেন। ভিকটিমরা সেখানে পৌঁছালে তিনি ফোনে নিজেকে অসুস্থ দাবি করতেন এবং “চাচাতো ভাই” বা “ফুপাতো ভাই” পরিচয়ে অন্য একজনকে পাঠানোর কথা বলতেন, যা বাস্তবে তিনি নিজেই ভিন্ন পরিচয়ে ব্যবহার করতেন।
তদন্তে জানা যায়, সাক্ষাতের জন্য সাধারণত মেট্রো স্টেশনের নিচের এলাকা ব্যবহার করা হতো। সেখান থেকে ভিকটিমদের বিভিন্ন কৌশলে ঢাকা যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত দুটি গোপন আস্তানায় নেওয়া হতো। ওইসব স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনি একাধিক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হতো। এরপর ফোন বিক্রির আগে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পরবর্তী ভিকটিমদের টার্গেট করার কাজে ব্যবহার করা হতো। পুলিশের ধারণা, এভাবেই একটি ধারাবাহিক প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালিত হচ্ছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, গত ৯ মার্চ প্রথম ভিকটিম একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১০ জন ভিকটিমকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি ১৩ জন তরুণীকে একই কৌশলে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে কদমতলী থানায়ও মামলা ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, ভিকটিমদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। সামাজিক সম্মানের কারণে অনেকে এখনো প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে প্রকৃত ভিকটিমের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) |
| গ্রেফতারকারী সংস্থা | ঢাকা মহানগর পুলিশ |
| অভিযোগের ধরন | অনলাইন প্রতারণা, ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ |
| শনাক্ত ভিকটিম | ১০ জন |
| স্বীকারোক্ত ভিকটিম সংখ্যা | ১৩ জন |
| প্রথম অভিযোগের তারিখ | ৯ মার্চ |
| অপরাধের স্থান | মেট্রো স্টেশন এলাকা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন দুটি গোপন আস্তানা |
| অতিরিক্ত অভিযোগ | পূর্বে মামলা ও জাল পরিচয়ে বিয়ে |
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তিনটি নিয়মিত মামলা ও একাধিক সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজের স্ত্রীকেও প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে যে এই ঘটনায় অন্য কোনো সহযোগী বা বৃহৎ চক্র জড়িত আছে কি না।