খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) চলতি মৌসুমে এক গভীর সংকটে পড়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগ থেকেই একের পর এক বিতর্ক, অনিশ্চয়তা ও দলীয় ভারসাম্যহীনতা ঘিরে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন এই দলটি। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই অস্থিরতার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যেখানে পাঁচ ম্যাচ খেলে এখনো একটিও জয় পায়নি তারা।
মৌসুম শুরুর আগেই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। ৩ জানুয়ারি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কেকেআরকে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয়। মিনি নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার পর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা। পরিকল্পনায় তিনি ছিলেন বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে আকস্মিকভাবে তার বাদ পড়া দলের ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি ইভেন্টে ভারতের মাটিতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
মুস্তাফিজের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে নেয় কেকেআর। তবে ততদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পেসার হার্ষিত রানা ও আকাশ দীপ ইনজুরিতে ছিটকে যান। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানা, যাকে ১৮ কোটি রুপিতে দলে নেওয়া হয়েছিল, শুরু থেকেই অনুপস্থিত থাকেন। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই কেকেআরের বোলিং ইউনিট কার্যত ভেঙে পড়ে।
এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব মাঠের ফলাফলেও স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে চারটি হার ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচ নিয়ে কেকেআরের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট। ১০ দলের মধ্যে তারা অবস্থান করছে পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে। আইপিএলের ইতিহাসে এটি কেকেআরের অন্যতম বাজে শুরু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যাটিং বিভাগেও ব্যর্থতার ছায়া স্পষ্ট। বড় প্রত্যাশা নিয়ে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া ক্যামেরন গ্রিন এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। সর্বশেষ চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শূন্য রানে আউট হন। ওপেনার ফিন অ্যালেনও ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন, ফলে ইনিংসের শুরুতেই চাপ তৈরি হচ্ছে।
দলে থাকা সত্ত্বেও টিম সেইফার্ট ও রাচিন রবীন্দ্র এখনো একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি, যা দলীয় কম্বিনেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে ইনজুরি ও অনুপস্থিতির কারণে ব্যাটিং গভীরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বোলিং বিভাগেও অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। দলের প্রধান দুই স্পিনার সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তী একাধিক ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন। নারাইন ফিরলেও তার প্রভাব সীমিত, আর বরুণ এখনো ছন্দে ফিরতে পারেননি। পেস আক্রমণ তো শুরু থেকেই দুর্বল—ইনজুরি ও অনভিজ্ঞতার কারণে প্রতিটি ম্যাচেই অতিরিক্ত রান খরচ করতে হচ্ছে বোলারদের।
নিচে কেকেআরের প্রধান সংকটগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| ক্ষেত্র | সমস্যা | প্রভাব |
|---|---|---|
| বোলিং ইউনিট | ইনজুরি ও অনুপস্থিতি | উইকেট কম, রান বেশি খরচ |
| ব্যাটিং | একাধিক ফ্লপ পারফরম্যান্স | শুরুতেই চাপ তৈরি |
| দলীয় কম্বিনেশন | একাদশে অনিশ্চয়তা | স্থিতিশীলতা নেই |
| বিদেশি খেলোয়াড় | অনুপস্থিতি ও ব্যর্থতা | ভারসাম্যহীন স্কোয়াড |
| ফলাফল | ৫ ম্যাচে জয় নেই | পয়েন্ট টেবিলে তলানিতে |
তবে এই অন্ধকার পরিস্থিতির মাঝেও সামান্য স্বস্তির খবর রয়েছে কেকেআর শিবিরে। ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থেকে এনওসি পেতে যাচ্ছেন পাথিরানা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ এপ্রিল রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন পেসার ফিরে এলেই কি বদলে যাবে পুরো দলের চিত্র? ব্যাটিং ব্যর্থতা, ইনজুরি সংকট এবং দলীয় আত্মবিশ্বাসের ভাঙন—সব মিলিয়ে কেকেআর এখন দাঁড়িয়ে এক গভীর সংকটের মুখে। ভক্তদের অপেক্ষা এখন একটাই, দলটি কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি এই ‘শনির দশা’ আরও দীর্ঘায়িত হবে।