খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশে এসেছে মোট ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় স্পষ্ট প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু ১৫ এপ্রিল একদিনেই দেশে এসেছে ১৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। ধারাবাহিক এই প্রবাহ এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৫ এপ্রিল সময়কালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ ব্যাংকিং খাতের তারল্য বাড়াতেও সহায়ক হচ্ছে।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রও ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফলে এ সময়কালে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নিচে রেমিট্যান্স প্রবাহের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| সময়কাল | রেমিট্যান্স প্রবাহ (মার্কিন ডলার) | প্রবৃদ্ধি |
|---|---|---|
| ১–১৫ এপ্রিল ২০২৫ | ১৪৭ কোটি ২০ লাখ | — |
| ১–১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ | ২১.৫% বৃদ্ধি |
| ১ জুলাই ২০২৫ – ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২,৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ | ২০.৪% বৃদ্ধি (YoY) |
| আগের অর্থবছরের একই সময় | ২,৩২৫ কোটি ৭০ লাখ | — |
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, এবং প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারণ।
তারা আরও মনে করছেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা, দ্রুত লেনদেন সুবিধা এবং প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।