খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে এক তরুণ চালকের সহকারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. হাফিজ (১৯)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি যাত্রীবাহী বাসে চালকের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিনের মতোই সকালে তিনি বাস নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাসটি মিরপুর থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, যাত্রী ওঠানোর পর বাসটি কিছুটা এগিয়ে যায়। এ সময় মো. হাফিজ দ্রুত দৌড়ে চলন্ত বাসে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত তিনি পা ফসকে নিচে পড়ে যান এবং গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করা হয়।
মিরপুর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসটি এবং চালককে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুত গতিতে বাস ছাড়ার কারণে এবং চলন্ত অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওঠার চেষ্টা করার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঘটনা এই এলাকায় নতুন নয়। প্রায়ই দেখা যায় চালক বা সহকারীরা যাত্রী ওঠানো-নামানোর পরও চলন্ত বাসে ঝুলে বা দৌড়ে ওঠার চেষ্টা করেন, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তারা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | মো. হাফিজ |
| বয়স | ১৯ বছর |
| পেশা | চালকের সহকারী |
| দুর্ঘটনার স্থান | মিরপুর-২, জাতীয় ক্রিকেট ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে সড়ক |
| সময় | শুক্রবার সকাল |
| ঘটনার ধরন | চলন্ত বাসে ওঠার সময় পা ফসকে নিচে পড়ে যাওয়া |
| বর্তমান ব্যবস্থা | মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, বাস ও চালক শনাক্তের চেষ্টা চলছে |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহনে নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো যানবাহন না থামানোর প্রবণতা এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা চালক ও সহকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং যাত্রী ওঠানামার সময় সম্পূর্ণভাবে বাস থামানোর নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহত হাফিজের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।