দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ করার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানি পাস ব্যবস্থার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে সরকার। এতে বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঢাকা জেলায় আজ থেকে মোট ১৮টি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর ৭টি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য এই জ্বালানি পাস ব্যবস্থার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পরে ধাপে ধাপে নতুন কেন্দ্র যুক্ত করে এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কর্তৃক কিউআর কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল মালিক বা চালকদের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত নিয়মে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। সফল পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষে এটি দেশের অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকায় নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| ক্রম |
জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রের নাম |
এলাকা |
| ১ |
করিম অ্যান্ড সন্স |
শ্যামলী |
| ২ |
ইস্টার্ন এন্টারপ্রাইজ |
মিরপুর এক |
| ৩ |
গাজীপুর ট্রেডার্স |
উত্তরা |
| ৪ |
সাত্তার অ্যান্ড কোম্পানি |
তেজগাঁও শিল্প এলাকা |
| ৫ |
রহমান ফিলিং স্টেশন |
মিরপুর দশ |
| ৬ |
করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স |
তেজগাঁও |
| ৭ |
রশিদ ফিলিং স্টেশন |
মহাখালী |
| ৮ |
বিআরবি ফিলিং স্টেশন |
তেজগাঁও |
| ৯ |
সেবা ফিলিং স্টেশন |
বাড্ডা |
| ১০ |
হামিদ ফিলিং স্টেশন |
মিরপুর |
| ১১ |
সুমাইয়া ফিলিং স্টেশন |
কাজীপাড়া, মিরপুর |
জ্বালানি পাস ব্যবস্থা চালুর আগে রাজধানীর আরও সাতটি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তেজগাঁও, আসাদগেট, মহাখালী, শাহবাগ, নিকুঞ্জ ও কল্যাণপুর এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, অপচয় ও অনিয়ম কমানো এবং প্রতিটি জ্বালানি গ্রহণের তথ্য নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে এটি সারা দেশের সব জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে সম্প্রসারণ করা হবে।