খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সাতক্ষীরা জেলায় সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে মজুত রাখা জ্বালানি তেল উচ্চমূল্যে বিক্রি করার দায়ে দুটি ফিলিং স্টেশনকে আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন।
জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণার পর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনায় বলা হয়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে বর্তমানে যে পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে, তা আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি করতে হবে। ডিপো থেকে নতুন দরে কেনা তেল সংগ্রহ করার পরই কেবল গ্রাহক পর্যায়ে নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর করা যাবে।
তবে আজ সকাল থেকেই জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে মজুত থাকা তেলের ওপর বর্ধিত দাম কার্যকর করে। স্টেশনগুলোতে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসাররা এই প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে মালিকপক্ষ তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক বিক্রি বন্ধ রাখার পর পুনরায় তারা বাড়তি দামেই তেল বিক্রি শুরু করে। এই অনিয়মের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন অভিযানে নামে। অভিযানে শহরের এ বি খান ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা এবং লস্কর ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দৈনিক জ্বালানি প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ সকাল পর্যন্ত জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত ছিল। এই মজুতকৃত তেল সরকার নির্ধারিত আগের দামেই বিক্রি করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল।
সাতক্ষীরা জেলার ২৯টি ফিলিং স্টেশনের মজুত পরিস্থিতি:
| জ্বালানি তেলের ধরন | মজুতের পরিমাণ (লিটার) |
| ডিজেল | ১,০১,৪৩২ |
| পেট্রোল | ৫৪,৪৮৫ |
| অকটেন | ২২,৬৮৩ |
| মোট মজুত | ১,৭৮,৬০০ |
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মজুতকৃত তেল অবৈধভাবে বাড়তি দামে বিক্রি করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় এই দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাতে তেলের সঠিক সরবরাহ ও মূল্য নিশ্চিত করা যায়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই তদারকি কার্যক্রম কেবল শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো জেলা জুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো পাম্প কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।