খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের জীবনবিমা খাতে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দাবি নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এখনো লক্ষাধিক গ্রাহক তাদের পাওনা অর্থ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে খাতটির প্রতি আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনিরীক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে জীবনবিমা খাতে মোট দাবি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিগুলো ৮ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, ফলে অনিষ্পন্ন দাবি রয়েছে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই সময়ে দাবি নিষ্পত্তির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ।
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট দাবি | ১৩,১৫৮ কোটি টাকা |
| নিষ্পত্তিকৃত দাবি | ৮,৭৫৫ কোটি টাকা |
| অনিষ্পন্ন দাবি | ৪,৪০৩ কোটি টাকা |
| নিষ্পত্তির হার | ৬৭ শতাংশ |
পলিসির সংখ্যার দিক থেকেও অগ্রগতি দেখা গেছে। মোট ২৮ লাখ ৪৩ হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ পলিসির মধ্যে ১৬ লাখ ৫৮ হাজার পলিসির দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ১১ লাখ ৮৫ হাজার পলিসিধারী তাদের অর্থের অপেক্ষায় রয়েছেন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যবসায়িক চাপ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি এবং লাইসেন্স নবায়নের শর্ত কোম্পানিগুলোকে দ্রুত দাবি পরিশোধে বাধ্য করেছে। পাশাপাশি এই সময়ে ব্যবসার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দাবি নিষ্পত্তিতে সহায়তা করেছে।
বিমা বিশেষজ্ঞ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির পরামর্শক এস এম জিয়াউল হক জানান, সাধারণত বছরের শেষ প্রান্তিকে মোট ব্যবসার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়, যেখানে অন্যান্য প্রান্তিকে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকে। ফলে এ সময় কোম্পানিগুলোর হাতে বেশি অর্থ আসে এবং তারা তুলনামূলক বেশি দাবি পরিশোধ করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধে অনাগ্রহী, যা পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কিছু ভালো কোম্পানি নিয়মিত ও সময়মতো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে সচেষ্ট।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানি প্রায় সম্পূর্ণ বা উচ্চ হারে দাবি নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক জীবনবিমা কোম্পানি ৯৮ শতাংশের বেশি দাবি পরিশোধ করেছে। একইভাবে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সও ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করেছে। এসব কোম্পানি দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থা ও শক্তিশালী তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, দুর্বল পারফরম্যান্সকারী কোম্পানিগুলোর ওপর বিশেষ অডিট, গ্রেডিং ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারি চালু করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মিত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের কাজও চলছে।
সব মিলিয়ে দাবি নিষ্পত্তির হার বাড়লেও খাতটিতে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।