পদ্মা নদীতে কয়েক দিন ধরে বড় আকারের কাতলা ও রুই মাছ ধরা পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুটি বড় মাছ নিলামে বিক্রি হয়েছে লাখ টাকার বেশি দামে। এর মধ্যে একটি কাতলা মাছ এবং একটি রুই মাছ স্থানীয় আড়তের মাধ্যমে বিক্রি হয়।
মৎস্যজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার মধ্যরাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট অন্তারমোড় এলাকার জেলে জমির হালদার নৌকা ও জাল নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ শিকারে যান। ভোররাতের দিকে তিনি কুশাহাটা এলাকার পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেলেন। কিছু সময় পর ফেরিঘাটের কাছাকাছি অবস্থানকালে তাঁর জালে বড় মাছ আটকে যায় বলে তিনি বুঝতে পারেন। পরে জাল টেনে নৌকায় তোলার পর দেখা যায়, প্রায় ত্রিশ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছে। এরপর তিনি মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনাল সংলগ্ন আড়তে নিয়ে আসেন।
একই সময় বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকার আরেক জেলে তারা মণ্ডলও পদ্মা নদীর মোহনায় জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর জালে বড় আকারের একটি রুই মাছ ধরা পড়ে। তিনিও মাছটি নিয়ে একই আড়তে বিক্রির জন্য যান।
আড়ত সূত্রে জানা যায়, কাতলা মাছটির ওজন ছিল ২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম এবং রুই মাছটির ওজন ছিল ১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম। মাছ দুটি আড়তে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা মাছ দুটি ক্রয় করেন। পরে কাতলা মাছটি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয় এবং রুই মাছটি মাদারীপুরের এক ক্রেতার কাছে পাঠানো হয়।
মাছ দুটির তথ্য সংক্ষেপে
| মাছের নাম |
ওজন |
প্রাথমিক ক্রয়মূল্য |
পরবর্তী বিক্রয়মূল্য |
ক্রেতার অবস্থান |
| কাতলা মাছ |
২৯ কেজি ৮০০ গ্রাম |
২ হাজার ২৫০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা |
৬৮ হাজার ৫০০ টাকা |
ঢাকা, ধানমন্ডি |
| রুই মাছ |
১৩ কেজি ৭০০ গ্রাম |
৩ হাজার ১০০ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে ৪২ হাজার ৫০০ টাকা |
৪৩ হাজার ৫০০ টাকা |
মাদারীপুর |
আড়ত মালিক রেজাউল মণ্ডল জানান, সকালে জমির হালদার বড় কাতলা মাছটি নিয়ে আসেন এবং কিছু সময় পর তারা মণ্ডল বড় রুই মাছটি নিয়ে আসেন। দুইটি মাছই নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, এ মৌসুমে পদ্মা নদীতে এত বড় কাতলা মাছ এর আগে খুব বেশি ধরা পড়েনি। তিনি আরও জানান, কাতলা মাছটি কেজি প্রতি দুই হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকা দরে এবং রুই মাছটি কেজি প্রতি তিন হাজার একশত টাকা দরে প্রথমে ক্রয় করা হয়। পরে পৃথক ক্রেতাদের কাছে সামান্য লাভে বিক্রি করা হয় এবং রুই মাছটি মাদারীপুরে পাঠানো হয়।
স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদীর মোহনা ও সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে বড় মাছ ধরা পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে জেলেদের মাঝে উৎসাহ বাড়ছে এবং আড়তগুলোতে বড় মাছের নিলামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।