খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়ায় নবনির্মিত আইনজীবী সমিতি ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আদালত ব্যবস্থাকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আদালত কোনোভাবেই হয়রানির স্থান হতে পারে না; এটি জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পবিত্র জায়গা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সেখানে বক্তব্য দেন এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, অতীতের দীর্ঘ একনায়কতান্ত্রিক শাসনামলে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি রাতের অন্ধকারে আদালত বসিয়ে আইনের অপব্যবহার করে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আদালত কখনোই হয়রানির জায়গা নয়; বরং এটি মানুষের শেষ ভরসার স্থান। তিনি উল্লেখ করেন, ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে জামিন প্রক্রিয়ায় হয়রানি কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখন দেশে জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে গণতন্ত্রকে স্থায়ী করতে হলে বিচার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে বগুড়া কোর্ট ভবন নির্মাণে পনেরো লাখ টাকা এবং লাইব্রেরির জন্য বই কেনায় পাঁচ লাখ টাকা, মোট বিশ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবঘোষিত কাঠামোর ফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরনো পৌরসভা নতুনভাবে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলো।
| সময়কাল | কর্মসূচি | স্থান |
|---|---|---|
| সকাল | গার্ড অব অনার গ্রহণ ও ভবন উদ্বোধন | বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন |
| সকাল পরবর্তী | ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন | আদালত প্রাঙ্গণ |
| মধ্যাহ্ন | সিটি করপোরেশন ফলক উন্মোচন | বগুড়া পৌরসভা এলাকা |
| দুপুর | হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্প উদ্বোধন | জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল |
| বিকেল | ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন | শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ |
| বিকেল পরবর্তী | খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন | নশিপুর ইউনিয়ন |
| সন্ধ্যা | জনসভায় অংশগ্রহণ | আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠ |
এছাড়া প্রায় দুই দশক পর তিনি তার পৈতৃক গ্রাম বাগবাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন, খাল খনন প্রকল্প উদ্বোধন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া শহরে ফিরে জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।
সব মিলিয়ে দিনব্যাপী এই সফরকে বগুড়ার অবকাঠামো, প্রশাসনিক উন্নয়ন ও বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।