খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা তার গতির ঝড় তুলে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। কিউই শিবিরের প্রশংসা থেকে শুরু করে স্বাগতিক দলের কোচের মুগ্ধতা—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এই তরুণ তুর্কি। আগামীকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানত নাহিদ রানাকে নিয়েই কথা বলেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।
আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বোলাররা বৈচিত্র্য আনতে গিয়ে প্রায়শই গতির সাথে আপস করেন। তবে নাহিদ রানার ক্ষেত্রে শন টেইটের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। টেইট মনে করেন, নাহিদের সবচেয়ে বড় শক্তি তার গতি এবং এটিকেই এখন প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। নাহিদকে কোনো বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না গিয়ে আপাতত ‘জোরে বল করা’র ধারা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
টেইটের মতে, ১৩০ কিলোমিটার গতিতে বল করা বোলারদের উইকেট পেতে স্লোয়ার ডেলিভারির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু নাহিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো; তার বিধ্বংসী বাউন্সার এবং ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিই ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ রানার বোলিং পরিসংখ্যান তার এই গতির সামর্থ্যকে প্রমাণ করে। সেই ম্যাচে তার করা ১০ ওভারের স্পেলের মধ্যে মাত্র একটি বল ছিল ১৪০ কিমি/ঘণ্টার নিচে।
নাহিদ রানা তার গতির বৈচিত্র্য ব্যবহার করে কীভাবে সাফল্য পেয়েছেন, তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| উইকেটের ধরণ | ডেলিভারির লেংথ | গতির প্রকৃতি (কিমি/ঘণ্টা) |
| ১টি উইকেট | ফুল লেংথ | ১৪১+ কিমি/ঘণ্টা |
| ৩টি উইকেট | বাউন্সার (শর্ট লেংথ) | ১৪১+ কিমি/ঘণ্টা |
| ১টি উইকেট | ইয়র্কার | ১৪১+ কিমি/ঘণ্টা |
নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের সাথে তুলনা করতে গিয়ে টেইট জানান, নাহিদ রানা শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট এবং চটপটে। টেইট স্বীকার করেছেন যে তার নিজের শরীর ভারী ছিল, যার ফলে জোরে বল করা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। বিপরীতে, নাহিদ একজন দক্ষ অ্যাথলেট হওয়ায় তার ইনজুরির ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে মনে করেন এই অস্ট্রেলীয় কোচ। নাহিদের বোলিং অ্যাকশন এবং সাবলীলভাবে গতি সঞ্চার করার ক্ষমতা তাকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বড় সম্পদে পরিণত করবে বলে টেইট আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নাহিদের ইয়র্কার ডেলিভারিগুলো দেখে টেইট পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের স্বর্ণালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, একজন ফাস্ট বোলারের প্রধান কাজ হলো টপ অর্ডার ভাঙা এবং লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত সাজঘরে ফেরানো, যা নাহিদ নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম। টেইটের মতে, নাহিদ যথেষ্ট বুদ্ধিমান এবং সময়ের সাথে সাথে সে ক্রিকেটের আরও অনেক কৌশল রপ্ত করবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টিকে জটিল না করে স্রেফ গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই হবে তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
নিউজিল্যান্ড দলের মিডিয়া ম্যানেজার ক্যালাম কর্নয় এবং কিউই পেসার উইল ও’রুর্কেও নাহিদ রানার বোলিং দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিপক্ষের চোখে যখন একজন পেসার ভীতি ও শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করেন, তখন সেই বোলারের সম্ভাবনা যে বহুমাত্রিক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত ক্রিকেট ভক্তদের নজর থাকবে চট্টগ্রামের তৃতীয় ওয়ানডেতে, যেখানে নাহিদ রানা তার গতির ঝড়ে আবারও প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পারেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।