খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কর্মকাণ্ড থামছেই না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি সত্ত্বেও মাটিখেকোদের হটানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জমির মালিক মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিজের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি দিচ্ছেন, যা অবৈধ কার্যকলাপে প্ররোচনা যোগাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বরইতলী ও হারবাংসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত হরদম কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। অধিকাংশ মাটি সরাসরি ইটভাটায় ব্যবহার হচ্ছে, এবং কিছু মাটি বাড়ি নির্মাণ ও গর্ত ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধ মাটি কাটার জন্য বড় বড় ট্রাকে কৃষিজমির মধ্য দিয়ে অস্থায়ী সড়ক তৈরি করা হচ্ছে।
একটি ট্রাক মাটির দাম এলাকাভেদে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। এই মাটির আয় থেকে জমির মালিকরা সাধারণত ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। ফলে মাটিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি কাটার অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। গত কয়েকটি অভিযানের বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| তারিখ | এলাকা | অভিযুক্ত | জরিমানা | জব্দকৃত সরঞ্জাম |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ জানুয়ারি | পশ্চিম বড় ভেওলা | নাজিম উদ্দিন | ১,০০,০০০ টাকা | – |
| ১৪ জানুয়ারি | ফাঁসিয়াখালী | রবিউল হাসান | ১,০০,০০০ টাকা | – |
| ১৮ জানুয়ারি | পশ্চিম বড় ভেওলা | এহেছান হাবিব মামুন | ৫০,০০০ টাকা | স্কেভেটর |
| ১৮ জানুয়ারি | কোনাখালী, জঙ্গলীয়া | – | – | স্কেভেটর নষ্ট, ব্যাটারি ২টি জব্দ |
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ণ দেব জানান, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাটি বেশিরভাগ ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, কেবল প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়; কৃষিজমির মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। আইন অনুযায়ী মালিকদেরও দায়িত্বের আওতায় আনা না হলে মাটিখেকোদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ মাটি কাটার এই মহোৎসব কমানো সম্ভব হবে।