খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। গত রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। আহত হয়েছেন ৪০ জনের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে রয়েছে চারটি শিশু। আহতদের একটি বড় অংশ এখনও সিডনির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাটি চালান বাবা সাজিদ আকরাম (৫০) ও তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪)। হামলার সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাজিদ আকরাম। তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসা চলছে। তদন্তে জানা গেছে, হামলার সময় ব্যবহৃত ছয়টি বন্দুকই পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো সাজিদ আকরামের নামেই বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার ব্যক্তিদের বয়স ছিল ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ পথচারী, সৈকতে বেড়াতে আসা পরিবার এবং কয়েকজন পর্যটকও রয়েছেন। আহত ৪০ জনের মধ্যে অন্তত ২৬ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে দুইজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হলেও বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, হামলার আগে বাবা-ছেলে মাছ শিকারের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সাজিদ আকরাম একটি শৌখিন শিকারি ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং নিয়ম মেনেই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, নাভিদ আকরাম ২০১৯ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) নজরে এসেছিলেন। মূলত তাঁর কিছু পরিচিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওই সময় নজরদারি করা হয়। তবে তখন তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
হামলার পরদিন সোমবার সিডনি শহরের বিভিন্ন স্থানে শোকাহত মানুষকে ফুল হাতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। বন্ডাই সৈকত এলাকায় তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ। শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এই মর্মান্তিক ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির সরকার হামলার পেছনের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়—তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | বন্ডাই সমুদ্রসৈকত, সিডনি |
| হামলার তারিখ | রোববার সন্ধ্যা |
| নিহত | ১৬ জন |
| আহত | ৪০+ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ৬টি বন্দুক |
| হামলাকারী | বাবা ও ছেলে |
এই ভয়াবহ হামলা শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, বিশ্বজুড়েই নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।