খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমী জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশের ১৩০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর একটি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমী জানান, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর সামরিক অভিযানে ইরানের শিক্ষা খাতের ওপর ব্যাপক আঘাত এসেছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, মোট ১৩০০টি স্কুল এই হামলার শিকার হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৭৫টি স্কুলের মেরামত ও সংস্কার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও বেশি।
হামলার তীব্রতায় অন্তত ২০টি স্কুল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়, ইরানের চারটি প্রধান প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। প্রদেশগুলো হলো:
তেহরান
কেরমানশাহ
ইসফাহান * হরমোজগান
সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর মেরামত কাজ আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই শেষ হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে আসতে পারে।
হামলা ও যুদ্ধকালীন সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যাতে থমকে না যায়, সেজন্য ইরান সরকার বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও দেশজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। যেসব এলাকায় সশরীরে স্কুলে যাওয়া সম্ভব ছিল না, সেখানে ‘ইরানিয়ান টেলিভিশন স্কুল’ এবং দূরশিক্ষণ (Distance Learning) পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ কাউন্সেলিং বা পরামর্শ সেবার সুযোগও রাখা হয়েছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বলে মন্ত্রণালয় মনে করে।
হামলায় প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে কাজেমী মিনাবের ‘শাহারেহ তাইয়েবেহ বালিকা বিদ্যালয়ে’ ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা স্মরণ করেন। ওই একক হামলায় মোট ১৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল সাধারণ স্কুলছাত্রী এবং তাদের শিক্ষিকাবৃন্দ। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে স্কুলগুলোতে বিশেষ স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে।
| বিষয়ের বিবরণ | পরিসংখ্যান/তথ্য |
| মোট ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের সংখ্যা | ১৩০০টি |
| ইতোমধ্যে মেরামত সম্পন্ন হওয়া স্কুল | ৭৭৫টি |
| সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া স্কুলের সংখ্যা | ২০টি |
| সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশসমূহ | তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও হরমোজগান |
| শাহারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে নিহতের সংখ্যা | ১৭০ জন (ছাত্রী ও শিক্ষিকা) |
| মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় | অক্টোবর, ২০২৬ |
| বিকল্প শিক্ষা মাধ্যম | টেলিভিশন স্কুল ও দূরশিক্ষণ |
ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো পুনরায় চালু করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে হরমোজগান ও কেরমানশাহর মতো সীমান্ত সংলগ্ন এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিক্ষা অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ২০টি স্কুলের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কেবল ভবন মেরামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের সময়সীমা সামনে রেখে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেছেন।