খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
২০১১ সালে ভারতের মাটিতে আয়োজিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে দীর্ঘ ২৮ বছর পর শিরোপা জিতেছিল স্বাগতিক দল। সেই গৌরবময় স্মৃতির পাশাপাশি একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে—দল থেকে তরুণ প্রতিভা রোহিত শর্মার বাদ পড়া। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই ঘটনার জন্য রোহিত শর্মার কাছে সরাসরি দুঃখপ্রকাশ করেছেন তৎকালীন নির্বাচক কমিটির প্রধান কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ এবং নিজের ব্যক্তিগত অনুশোচনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য শ্রীকান্ত জানান, ২০১১ সালের দল নির্বাচনের সময় তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘হাফ অলরাউন্ডার’ রাখা। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ের কৌশলের আদলে তারা এমন কিছু খেলোয়াড় চেয়েছিলেন যারা ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর বোলিংও করতে পারেন। শ্রীকান্তের ভাষ্যমতে, রোহিত শর্মা তখন ফর্মে থাকলেও এবং দলে থাকার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা রাখলেও শুধুমাত্র দলীয় ভারসাম্যের স্বার্থে তাকে বাদ দিতে হয়েছিল।
শ্রীকান্ত বলেন, “আমি গত বছর রোহিতকে বলেছি যে আমি দুঃখিত। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় ছিল না, বরং আমরা কিছু অলরাউন্ডার নিতে চেয়েছিলাম যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”
নির্বাচকদের সেই সিদ্ধান্তের সুফল ভারত অবশ্য পেয়েছিল। টুর্নামেন্ট জুড়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যুবরাজ সিং হয়েছিলেন টুর্নামেন্ট সেরা। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে ২০১১ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারফরমার এবং তাদের দ্বিমুখী অবদানের চিত্র তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | ভূমিকা | ২০১১ বিশ্বকাপের অবদান (সংক্ষেপে) |
| যুবরাজ সিং | অলরাউন্ডার | ৩৬২ রান এবং ১৫টি উইকেট (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) |
| ইউসুফ পাঠান | অলরাউন্ডার | মিডল অর্ডার ব্যাটিং ও অফ-স্পিন বোলিং |
| সুরেশ রায়না | অলরাউন্ডার | ফিনিশার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রান ও খণ্ডকালীন বোলিং |
| বীরেন্দর শেবাগ | টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান | ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝে মাঝে অফ-স্পিন বোলিং |
| শচীন টেন্ডুলকার | ওপেনিং ব্যাটসম্যান | দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও খণ্ডকালীন বোলিং |
এই ছক থেকেই স্পষ্ট যে, ব্যাটিং গভীরতা এবং অতিরিক্ত বোলিং অপশন নিশ্চিত করতেই নির্বাচকেরা বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিতকে বিবেচনা না করে অলরাউন্ড সামর্থ্য সম্পন্ন খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
২০১১ বিশ্বকাপের সেই হতাশা ভুলে রোহিত শর্মা নিজেকে সাদা বলের ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শচীন টেন্ডুলকারের অবসরের পর ওপেনিং স্লটে নিজেকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কিছু মাইলফলক নিচে আলোচনা করা হলো:
দ্বিশতরানের রেকর্ড: ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক তিনি।
বিশ্বকাপ সাফল্য: ২০০৭ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন এবং ২০২৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে ভারতের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেন।
নেতৃত্ব: তাঁর অধীনে ভারত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যদিও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
বর্তমানে রোহিত শর্মা টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের হয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের এই সাম্প্রতিক দুঃখপ্রকাশ এটাই প্রমাণ করে যে, রোহিতের মতো প্রতিভা তখন দলে না থাকাটা ছিল ক্রিকেটীয় কৌশলের এক চরম মূল্য, যা আজও নির্বাচকদের ভাবিয়ে তোলে।