খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই কূটনৈতিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ওইদিন দিবাগত রাত ৩টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বর্তমান আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং একটি টেকসই সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের এই আলোচনায় বৈরুতের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো হলো:
ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সমাপ্তি: লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসরাইলি আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
সেনা প্রত্যাহার: লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিজ সীমান্তে ফিরিয়ে নেওয়া।
বন্দিবিনিময়: উভয় পক্ষের হাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানো।
সীমান্ত নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক সীমান্তে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা।
পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় উদ্যোগ গ্রহণ।
উভয় দেশের প্রতিনিধিরা যে বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে আলোচনায় বসছেন, তা নিচের সারণিতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | লেবাননের অবস্থান | ইসরাইলের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট |
| যুদ্ধবিরতি | স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও মেয়াদ বৃদ্ধি। | নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে মেয়াদ বৃদ্ধি। |
| ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ | ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত। | সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী। |
| সেনা মোতায়েন | সীমান্তে লেবানন সেনাবাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণ। | সীমান্তে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রোধ। |
| বন্দি মুক্তি | সকল লেবানিজ বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি। | নিখোঁজ বা আটক ইসরাইলিদের ফেরত পাওয়া। |
| পুনর্গঠন | ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত নিরূপণ ও সংস্কার শুরু। | সীমান্ত স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ। |
প্রথম দফার আলোচনার পর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিটি উভয় দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে ১০ দিনের এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফার এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটনের এই মধ্যস্থতাকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবানন সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী, যেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের সফলতা নির্ভর করছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নমনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার ওপর। আজকের এই বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও কতদিন বাড়বে বা স্থায়ী শান্তির কোনো রূপরেখা আসবে কি না, সেদিকেই এখন বিশ্ববাসীর নজর।