খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাজ্যের গ্লুস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোরবেলায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও গ্লুস্টারশায়ার লাইভ-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোররাতে আগুন লাগার পরপরই জরুরি সেবা সংস্থার একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর তৎপরতার ফলে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের নিজস্ব কোনো উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে ওই বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম বা উড়োজাহাজের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। এটি যুক্তরাজ্যের মাটিতে অবস্থিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক কার্যক্রমে এই ঘাঁটির ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে বিমানঘাঁটির চলমান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনাটি ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ঘাঁটিতে বিভিন্ন সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর কৌশলগত বিমান মোতায়েন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেলেও ঘটনাটির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।