হংকংকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের নারী হকি দল। এ জয়ের মাধ্যমে তারা সেমিফাইনালেও উত্তীর্ণ হয়। ড্র করলেই মূল পর্ব নিশ্চিত হওয়ার সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, তবে জয় তুলে নিয়েই তারা ইতিহাস গড়ে।
চলমান এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব বাংলাদেশের নারী হকি দলের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। অভিষেক টুর্নামেন্টেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে তারা। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নারী হকি দল এশিয়ান গেমসের মূল আসরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করল। আগামী সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর, যেখানে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী হকি দলও অংশ নেবে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য প্রতিকূল। ম্যাচ শুরুর মাত্র প্রথম মিনিটেই হংকং চায়না দল গোল করে এগিয়ে যায়। দ্রুত গোল হজম করলেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং আক্রমণাত্মক খেলায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।
বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ১০ম মিনিটে। জটলার মধ্যে থেকে চমৎকার হিটে ফিল্ড গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মিডফিল্ডার নাদিরা এমা। তার এই গোল ম্যাচে নতুন গতি এনে দেয় এবং বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা চালিয়ে যায়।
প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক খেলায় আধিপত্য বজায় রাখে। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে আবারও সফল হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিল্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কনা আক্তার। তার এই গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রাখে।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর কোনো দল গোল করতে না পারলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী হকি দল। এই জয়ের মাধ্যমে তারা শুধু সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়নি, বরং প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে।
এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে এটি বাংলাদেশের নারী হকি দলের অভিষেক হলেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেই মূল পর্ব নিশ্চিত করে তারা দেশের হকি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।