খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পপ সঙ্গীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক নতুন বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে মুক্তির পর থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে অভূতপূর্ব আয় করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বক্স অফিসে এই সাফল্য সাম্প্রতিক সময়ের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেও এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সপ্তাহান্তে ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারে। প্রায় ২০ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিনিয়োগের বড় অংশ তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে।
জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে এই ঘরানার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ এবং ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ যথাক্রমে ৬ কোটি এবং ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বোধনী আয় করেছিল। কিন্তু ‘মাইকেল’ সেই সব রেকর্ডকে বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
| চলচ্চিত্রের নাম | মুক্তির বছর | প্রথম সপ্তাহান্তের আয় (মার্কিন ডলার) |
|---|---|---|
| মাইকেল | ২০২৬ | ৯৭ মিলিয়ন |
| স্ট্রেট আউটা কম্পটন | ২০১৫ | ৬০ মিলিয়ন |
| বোহেমিয়ান র্যাপসোডি | ২০১৮ | ৫১ মিলিয়ন |
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকা। এতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত তারকা হয়ে ওঠার যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই পরিবারের সদস্য জাফর জ্যাকসন, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
চলচ্চিত্রটি নির্মাণে অংশ নিয়েছে লায়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল এবং মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট। বড় বাজেট ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনার কারণে সিনেমাটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২০ কোটি ডলার হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে সমালোচনার দিক থেকেও সিনেমাটি বিতর্কের বাইরে নয়। সমালোচকরা মনে করছেন, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের পরবর্তী সময়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত অধ্যায়, বিশেষ করে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো, চলচ্চিত্রে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কাহিনিতে পরিবর্তন এনে মূলত ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুর পর্যন্ত গল্প সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
রিভিউ সাইট রটেন টম্যাটোজে সিনেমাটির ইতিবাচক রেটিং মাত্র ৩৮ শতাংশ হলেও দর্শক প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ইতিবাচক। সিনেমাস্কোর জরিপে দর্শকরা একে ‘এ মাইনাস’ গ্রেড দিয়েছেন। বিশেষ করে ২৫ বছরের বেশি বয়সী দর্শক এবং নারী দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটির জনপ্রিয়তা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণে প্রযোজনা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক আরও সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করতে পারে।