খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট এবং এর পার্শ্ববর্তী দুর্গম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত বীমা জালিয়াতি চক্রের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্তে জানা গেছে, এই চক্র আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় দুই শত বিশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, এই অপরাধচক্রে কিছু পর্যটন সহায়ক, রোটরচালিত আকাশযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশি পর্যটকদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হতো। তাদের খাদ্যের সঙ্গে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হতো, যাতে তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার নামে রোটরচালিত আকাশযান ব্যবহার করে তাদের নিচু অঞ্চলে নামানো হতো।
এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ উদ্ধার অভিযানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানো হতো। যেখানে একটি স্বাভাবিক আকাশযান উদ্ধার অভিযানে দুই থেকে তিন হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা, সেখানে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দশ থেকে পনের হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দাবি করা হতো। পাশাপাশি নির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ও কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হতো।
| ধাপ | কার্যক্রম | মাধ্যম | আর্থিক প্রভাব |
|---|---|---|---|
| প্রথম ধাপ | পর্যটকদের নির্বাচন ও নজরদারি | পর্যটন সহায়ক | সরাসরি ব্যয় নেই |
| দ্বিতীয় ধাপ | খাবারের মাধ্যমে অসুস্থতা সৃষ্টি | খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা | স্বাস্থ্য সংকট তৈরি |
| তৃতীয় ধাপ | জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা | রোটরচালিত আকাশযান | উচ্চ উদ্ধার ব্যয় দাবি |
| চতুর্থ ধাপ | নির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি | বেসরকারি হাসপাতাল | চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি |
| পঞ্চম ধাপ | বীমা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত দাবি | জাল নথিপত্র | বিপুল অর্থ আত্মসাৎ |
নেপালের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এই ঘটনায় তেত্রিশ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রোটরচালিত আকাশযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক, পর্যটন সহায়ক এবং কিছু চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন।
তদন্ত সংস্থার মতে, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সুসংগঠিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং আন্তর্জাতিক বীমা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এই জালিয়াতির ঘটনায় নেপালের পার্বত্য পর্যটন খাতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো নেপালে তাদের সেবা কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে পর্যটন খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিদেশি পর্যটকদের আস্থাকে দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের পর্যটন আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সরকারি পর্যায়ে উদ্ধার কার্যক্রম ও পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম ও মানদণ্ড প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ করা যায় এবং আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
এই ঘটনা বীমা ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং উচ্চ পার্বত্য পর্যটন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর তদারকির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।