খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া তাদের কণ্ঠস্বর ও শারীরিক অবয়ব ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রবণতা রুখতে নিজের পরিচয়ের উপাদানগুলোকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। এ উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর কণ্ঠস্বর এবং শারীরিক অবয়বকে ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন।
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক দপ্তরে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোট তিনটি পৃথক আবেদন জমা দেওয়া হয়। এসব আবেদনের মাধ্যমে সুইফট তাঁর কণ্ঠ, ছবি এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের অন্যান্য উপাদানকে বাণিজ্যিকভাবে অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে খুব সহজেই কারও কণ্ঠস্বর অনুকরণ করা বা ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অনুমতি ছাড়াই শিল্পীদের ভুয়া কনটেন্ট তৈরি হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। টেইলর সুইফটও এর আগে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, যেখানে তাঁর নামে তৈরি করা অশ্লীল ও বিভ্রান্তিকর ছবি এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহৃত ভুয়া চিত্র দেখা গেছে।
আইনজীবীদের ধারণা, এই ধরনের সুরক্ষা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কোনো স্টুডিও বা প্রতিষ্ঠান যেমন তাদের সিনেমার চরিত্রের স্বত্ব রক্ষা করে, তেমনি সুইফটও তাঁর কণ্ঠ বা চেহারার অননুমোদিত ব্যবহার রোধে আরও শক্তিশালী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
এ ধরনের উদ্যোগের দৃষ্টান্ত আগেও রয়েছে। অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককোনাঘি তাঁর বিখ্যাত সংলাপ “অলরাইট, অলরাইট, অলরাইট!”-কে ট্রেডমার্ক করে একই ধরনের আইনি সুরক্ষার পথ তৈরি করেছিলেন। তবে সুইফটের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বিস্তৃত, কারণ এটি শুধু একটি সংলাপ নয়, বরং তাঁর পুরো কণ্ঠস্বর ও শারীরিক উপস্থিতিকে ঘিরে।
| আবেদন বিষয় | উদ্দেশ্য | সম্ভাব্য সুরক্ষা ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| কণ্ঠস্বর সুরক্ষা | কৃত্রিমভাবে কণ্ঠ অনুকরণ রোধ | গান, অডিও, বিজ্ঞাপন |
| শারীরিক অবয়ব | ছবি ও অবয়বের অপব্যবহার বন্ধ | ভিডিও, পোস্টার, ডিজিটাল কনটেন্ট |
| পরিচয় উপাদান | সামগ্রিক ব্যক্তিগত পরিচয় রক্ষা | বিনোদন ও প্রচারণা মাধ্যম |
বর্তমানে টেইলর সুইফট নিজেও একটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আছেন। ম্যারেন ওয়েড নামের এক শিল্পী অভিযোগ করেছেন, সুইফটের ২০২৫ সালের অ্যালবাম “দ্য লাইফ অফ আ শোগার্ল” তার পূর্ববর্তী একটি ট্রেডমার্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই মামলাটি চলমান থাকলেও, নতুন উদ্যোগটি সুইফটের ব্যক্তিগত পরিচয় সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বিনোদন জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার বাড়লে শিল্পীদের জন্য নিজেদের কণ্ঠ ও চেহারা আইনি সুরক্ষায় রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। টেইলর সুইফটের এই পদক্ষেপ সেই দিকেই একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।