খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি, বিশেষ করে ড্রোন হামলার শঙ্কা নিরসনে ন্যাশনাল গার্ডকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। একটি সুসংগঠিত ‘একীভূত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁরা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির সদস্য মাইকেল ম্যাককল এবং এলাইজাহ ক্রেন একটি যৌথ চিঠি ইস্যু করেছেন। এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে নবনিযুক্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং প্রতিরক্ষা সচিব (পেন্টাগন প্রধান) পিট হেগসেথের কাছে।
চিঠিতে দুই আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন যে, বিশ্বকাপের মতো বিশালাকৃতির বৈশ্বিক ইভেন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ড্রোনের মাধ্যমে যেকোনো নাশকতামূলক তৎপরতা (Counter-UAS) রুখে দিতে ন্যাশনাল গার্ডকে বিশেষ আইনি ক্ষমতা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা জরুরি। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুসমন্বিত ফেডারেল নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ম্যাককল ও ক্রেন আসন্ন গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্ট চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি আয়োজক শহরের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত আন্তঃসংস্থা পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের কথা তুলে ধরেছেন:
জনবল সংকট: নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত সদস্যের অভাব।
আইনি জটিলতা: আয়োজক শহর এবং আয়োজক কমিটির মধ্যে নিরাপত্তা পরিচালনার এখতিয়ার নিয়ে প্রশাসনিক অস্পষ্টতা।
বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা: সমন্বয়ের অভাবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।
এই প্রেক্ষাপটে, ন্যাশনাল গার্ডের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। ন্যাশনাল গার্ড অত্যন্ত দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ড্রোন হামলা প্রতিরোধের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করার জন্য তাদের সবচেয়ে কার্যকর বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সিংহভাগ ম্যাচ এবং চূড়ান্ত পর্বগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। নিচে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক শহরগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
| আয়োজক শহর | স্টেডিয়ামের নাম | অবস্থান (অঙ্গরাজ্য) |
| নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি | মেটলাইফ স্টেডিয়াম | নিউ জার্সি |
| লস অ্যাঞ্জেলেস | সোফাই স্টেডিয়াম | ক্যালিফোর্নিয়া |
| ডালাস | এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম | টেক্সাস |
| কানসাস সিটি | অ্যারোহেড স্টেডিয়াম | মিসৌরি |
| হিউস্টন | এনআরজি স্টেডিয়াম | টেক্সাস |
| আটলান্টা | মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম | জর্জিয়া |
| ফিলাডেলফিয়া | লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড | পেনসিলভানিয়া |
| সিয়াটল | লুমেন ফিল্ড | ওয়াশিংটন |
| সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া | লেভিস স্টেডিয়াম | ক্যালিফোর্নিয়া |
| বোস্টন | জিলেট স্টেডিয়াম | ম্যাসাচুসেটস |
| মিয়ামি | হার্ড রক স্টেডিয়াম | ফ্লোরিডা |
ওয়াশিংটনে ‘হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে’ সংঘটিত সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনার পর বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে হোয়াইট হাউস থেকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে আপসহীন। তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল ক্রীড়াশৈলীর জন্য নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ক্রীড়া আসর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই লক্ষ্যে সকল ফেডারেল সংস্থা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।