শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ দুই হাজার পঁচিশ সালের ত্রিশে ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে দশ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ ও অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার আটাশে এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে বুধবার উনত্রিশে এপ্রিল তারিখে শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী আলোচ্য বছরে ব্যাংকটির আয় ও আর্থিক অবস্থায় উন্নতির ধারা লক্ষ্য করা গেছে। শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে দুই টাকা পঁয়ষট্টি পয়সা, যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল এক টাকা একুশ পয়সা। এই বৃদ্ধি ব্যাংকের মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে একুশ টাকা ঊনত্রিশ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে তা ছিল ঋণাত্মক সতেরো টাকা চৌষট্টি পয়সা। এ পরিবর্তন ব্যাংকের নগদ ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম পরিচালনায় উন্নতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পদের দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি অগ্রগতি অর্জন করেছে। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে তেইশ টাকা চৌষট্টি পয়সা, যা আগের বছরে ছিল একুশ টাকা সাতচল্লিশ পয়সা। এটি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী পঁচিশে জুন দুপুর সাড়ে বারোটায় অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় শেয়ারধারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঘোষিত লভ্যাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আঠারোই মে।
আলোচ্য হিসাব বছরের প্রধান আর্থিক সূচকসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| আর্থিক সূচক |
দুই হাজার পঁচিশ হিসাব বছর |
পূর্ববর্তী হিসাব বছর |
| শেয়ারপ্রতি আয় |
দুই টাকা পঁয়ষট্টি পয়সা |
এক টাকা একুশ পয়সা |
| শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ |
একুশ টাকা ঊনত্রিশ পয়সা |
ঋণাত্মক সতেরো টাকা চৌষট্টি পয়সা |
| শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য |
তেইশ টাকা চৌষট্টি পয়সা |
একুশ টাকা সাতচল্লিশ পয়সা |
সার্বিকভাবে পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচ্য হিসাব বছরে ঢাকা ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি আয় বৃদ্ধি, নগদ প্রবাহের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সম্পদের মান উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ বিনিয়োগকারীদের জন্য নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।