খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চলমান কালবৈশাখি ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা জেলায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে অব্যাহত ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ায় জেলার কৃষি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো ও নগর জীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বুধবার তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও হালকা ঝড়ো হাওয়া ও ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ মঙ্গলবার ঘণ্টায় প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে মোট ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও তিলসহ বিভিন্ন ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও বোরো ধান প্রায় পরিপক্ব অবস্থায় থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
| ফসলের ধরন | ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা (হেক্টর) |
|---|---|
| ভুট্টা | ৫৫০ |
| গ্রীষ্মকালীন সবজি | ৩৬৪ |
| তিল | ৯১ |
| অন্যান্য ফসল | ৭২৮ |
| মোট | ১৭৩৩ |
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোরো ধানের প্রায় ২৩ শতাংশ ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে এবং বাকি ধান বেশিরভাগই পরিপক্ব পর্যায়ে রয়েছে। তবে জমিতে পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে কিছু ক্ষেত্রে পচনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে শতাধিক বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে গেছে, অর্ধশতাধিক রূপান্তর যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে বহু এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় মেরামত কাজে সময় লাগছে এবং জনবল সংকটও রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মতে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বাড়ছে, যা ঝড়ো আবহাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে এবং আগামী একদিন আরও বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খাল-নালায় বর্জ্য জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয় এবং কোথাও কোথাও পানির মধ্যেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে বলে জানা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।