রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বজ্রপাতের আকস্মিক ঘটনায় এক পিতা নিহত হয়েছেন, তবে তার কোলে থাকা সাড়ে তিন বছর বয়সী কন্যা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম সুমন আহম্মেদ (৩৭)। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মর্জৎকোল বাগমারা এলাকার সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী সদস্য হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে সুমন তাঁর সাড়ে তিন বছর বয়সী কন্যা সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ আকাশে ঘন মেঘ জমে বজ্রপাত শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সুমন আহম্মেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তাঁর কোলে থাকা শিশুটি ছিটকে পড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর কোলে থাকা শিশু সাফিয়া অল্প আঘাতপ্রাপ্ত হলেও প্রাণে বেঁচে যায়। শিশুটির নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বজ্রপাতের সময় বাবা-মেয়ের এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার একটি উদাহরণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুমন ছিলেন একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ। পরিবারে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| নিহত ব্যক্তির নাম |
সুমন আহম্মেদ |
| বয়স |
৩৭ বছর |
| পেশা |
ওষুধ কোম্পানির কর্মী |
| ঠিকানা |
মর্জৎকোল বাগমারা, রাজবাড়ী সদর |
| ঘটনার সময় |
বুধবার, সকাল পৌনে ৭টা |
| ঘটনা |
বজ্রপাতে মৃত্যু |
| আহত |
সাড়ে ৩ বছরের কন্যা সাফিয়া |
| শিশুর বর্তমান অবস্থা |
সামান্য আহত, সুস্থ রয়েছে |
| উদ্ধার স্থান |
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল |
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষা পূর্ব মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। খোলা আকাশের নিচে থাকা, বিশেষ করে গাছ বা উঁচু স্থানের কাছে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি বজ্রপাতজনিত নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানোর তাগিদ অনুভূত হচ্ছে।