খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায় মোটরসাইকেল চালকদের জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহ করার অপরাধে একটি কম্পিউটারের দোকান সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে জলঢাকা থানা গেট সংলগ্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জায়েদ ইমরুল মোজাক্কিন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনকে জলঢাকা থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। এই ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জলঢাকা থানা গেট এলাকায় অবস্থিত ‘মনির কম্পিউটার’ নামক দোকানের মালিক মনির হোসেন অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা যখন ফুয়েল কার্ডের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে ওই দোকানে আসতেন, তখন দোকান মালিক তাদের দ্রুত লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। তিনি বিআরটিএ-এর (BRTA) মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের আদলে হুবহু জাল ও ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি তৈরি করে দিতেন। চালকরা এই জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন করার চেষ্টা করতেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ ইমরুল মোজাক্কিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মনির কম্পিউটারে আকস্মিক হানা দেন। অভিযানে দোকানটির কম্পিউটার তল্লাশি করে বেশ কিছু ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের সফটকপি এবং প্রিন্ট করা কপি জব্দ করা হয়। অভিযুক্ত দোকান মালিক মনির হোসেন জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির বিষয়টি স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
আদালত দণ্ডবিধি এবং সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার বিষয়ক আইনের বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত দোকান মালিককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধে দোকানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়েদ ইমরুল মোজাক্কিন গণমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেল চালকদের বিভ্রান্ত করে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি কেবল জালিয়াতিই নয় বরং এর ফলে অযোগ্য চালকরা রাস্তায় নামার সুযোগ পায়, যা জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তিনি আরও বলেন:
“জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা দোকানটি সিলগালা করেছি এবং মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের জালিয়াতি চক্র থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সবসময় বৈধ উপায়ে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে হবে।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘ফুয়েল কার্ড’ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত যেকোনো সরকারি সেবার জন্য বিআরটিএ-এর নির্ধারিত পোর্টাল এবং সরকারি বিধি অনুসরণ করা আবশ্যক। কোনো বেসরকারি দোকান বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে জাল কাগজপত্র তৈরি করা হলে আবেদনকারীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই অভিযানের ফলে স্থানীয় কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে যারা এ ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের মধ্যে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের চেষ্টা করা হলে ডাটাবেসে তা ধরা পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হবে।
জলঢাকায় পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের তদারকি নিয়মিত অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। ৩০ এপ্রিলের এই অভিযানের মাধ্যমে মনির কম্পিউটারের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।