খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
দেশের শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধার কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক স্বাস্থ্য বা ব্যাংক মূল্যায়ন সূচক—যা সাধারণভাবে ক্যামেলস রেটিং নামে পরিচিত—অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সুদহারে তহবিল পাবে।
নতুন কাঠামোতে ব্যাংকের রেটিং অনুযায়ী ৫, ৭ ও ১০ বছরের ঋণের সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের টেবিলে তা তুলে ধরা হলো—
| ব্যাংক রেটিং | ৫ বছর মেয়াদ | ৭ বছর মেয়াদ | ১০ বছর মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| রেটিং ১ | ১.০০ শতাংশ | ১.২৫ শতাংশ | ১.৫০ শতাংশ |
| রেটিং ২ | ১.২৫ শতাংশ | ১.৫০ শতাংশ | ১.৭৫ শতাংশ |
| রেটিং ৩ | ১.৫০ শতাংশ | ১.৭৫ শতাংশ | ২.০০ শতাংশ |
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই নতুন হার আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করবে, যাতে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে তহবিল পেতে পারে।
এর আগে দীর্ঘমেয়াদি এই তহবিলের সুদহার নির্ধারণ হতো আন্তর্জাতিক ভিত্তি সুদের হার যুক্ত করে অতিরিক্ত শতাংশ নির্ধারণের মাধ্যমে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সুদের হার পরিবর্তিত হলে দেশীয় ঋণেও তার প্রভাব পড়ত। নতুন ব্যবস্থায় সেই জটিলতা কমিয়ে স্থির ও পূর্বানুমানযোগ্য সুদের কাঠামো আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ ব্যয় এবং পরিচালন খরচ বিবেচনা করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে এই হার কোনোভাবেই তহবিল ব্যয়ের তুলনায় দুই থেকে তিন শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না। আগে এই মার্জিন ছিল এক থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত।
এ পরিবর্তনের ফলে উদ্যোক্তারা তুলনামূলকভাবে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
নতুন নীতিমালায় ঋণসীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন একজন একক ঋণগ্রহীতা একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে একাধিক ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত ঋণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ দুই কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। বিদ্যমান ও নতুন—উভয় ধরনের ঋণেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ চাহিদা এবং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।