খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিধান যাকাত সম্পর্কে বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি এই বক্তব্যকে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।
শনিবার (২ মে, ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তারা সংশ্লিষ্ট নেত্রীর বক্তব্যকে কেবল অবিবেচনাপ্রসূত নয়, বরং ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ জানান যে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আয়োজিত টকশোতে অংশগ্রহণকালীন নিলোফার চৌধুরী মনি যাকাতের বিধান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি যাকাত প্রদানের চেয়ে চাঁদাবাজিকে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বা ‘উত্তম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ছাত্রশিবিরের মতে, ইসলামের একটি ফরজ ইবাদতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করা চরম ধৃষ্টতার বহিঃপ্রকাশ।
যাকাত কেবল একটি দান নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়তের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। বিবৃতিতে যাকাতের গুরুত্ব সম্পর্কে নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ তুলে ধরা হয়:
ফরজ বিধান: যাকাত প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি বাধ্যতামূলক ইবাদত। এটি অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য: যাকাত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সমাজে সম্পদ কুক্ষিগত হওয়া রোধ করা এবং অভাবীদের অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা।
সামাজিক নিরাপত্তা: এটি দরিদ্র, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বিপরীতে, চাঁদাবাজি একটি সামাজিক ব্যাধি এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামের পবিত্র বিধানকে একটি জঘন্য অপরাধের সাথে তুলনা করা কেবল অজ্ঞতা নয়, বরং সচেতনভাবে ধর্মীয় অবমাননার শামিল।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা ৫ই আগস্ট পরবর্তী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে দেন। তারা উল্লেখ করেন যে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশ পুরোপুরি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং জুলুমমুক্ত হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুখ থেকে যখন চাঁদাবাজির পক্ষে সাফাই গাওয়া হয় বা একে ধর্মীয় বিধানের চেয়ে শ্রেয় মনে করা হয়, তখন তা দেশবাসীকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করে। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এখনো চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
ক্ষমা প্রার্থনা: নিলোফার চৌধুরী মনিকে তার বিতর্কিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
দলের অবস্থান স্পষ্ট করা: নিলোফার চৌধুরী মনি যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই দলকে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা: প্রশাসনকে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, অতীতেও যারা ইসলামের মৌলিক বিধান নিয়ে কটাক্ষ করেছে, সাধারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখান করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেন। অন্যথায়, তৌহিদী জনতা ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়।
পরিশেষে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।