খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৪০ দিন। ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞের ক্ষণগণনা শুরু হলেও এশিয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দল ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা এখনো নিরসন হয়নি। বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভেন্যু সংক্রান্ত জটিলতায় বিষয়টি ক্রমেই আরও সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআর) শীর্ষ কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার বার্ষিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বকাপের পূর্বপ্রস্তুতি ও বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই কংগ্রেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে ইরানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে টরন্টো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণ’ করার অভিযোগ ওঠে। এই কূটনৈতিক অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ইরানের প্রতিনিধিদল কংগ্রেস বর্জন করে নিজ দেশে ফিরে যান।
এই ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের অনেক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফিফার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের বর্তমান অবস্থান এই যে, আমরা শিগগিরই ফিফার সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হব।” আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম ইতিমধ্যে ইরানি প্রতিনিধিদলকে আগামী ২০ মের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার সদর দপ্তরে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।
ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংকটের মূল সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আদর্শের কারণ দর্শিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিবর্তে তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায় যেন ইরানের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোনো দেশে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত ইরানের এই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একাধিকবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। এমনকি ভ্যাঙ্কুভার কংগ্রেসেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।”
ইরান ফুটবল দল এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্বে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও মাঠের বাইরের ভূ-রাজনীতি এখন তাদের অংশগ্রহণের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান মনে করছে, যে দেশ তাদের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে, সেই দেশে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, ফিফার সংবিধানে খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো মধ্যস্থতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুরিখে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ২০ মের বৈঠকটিই হবে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। যদি ফিফা ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি মেনে না নেয় এবং ইরান তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইরানের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ইরানের মতো একটি শক্তিশালী দল যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তা টুর্নামেন্টের জৌলুসে যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনি এশীয় ফুটবলের প্রতিনিধিত্বও সংকুচিত হবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা সাধারণত তাদের পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু বা সূচি পরিবর্তন করে না, যা ইরানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় ফিফা কোনো মধ্যবর্তী সমাধান বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ২০ মের জুরিখ বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব, যেখানে নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘পারস্যের চিতা’ খ্যাত দলটির ভাগ্য।
সংবাদটি মার্জিত ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পুনর্লিখন করা হলো, যেখানে শুধুমাত্র মূল তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। কোনো আবেগ বা ব্যক্তিগত অনুমানের আশ্রয় নেওয়া হয়নি।