গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে অনেক সরকার গণমাধ্যমকে স্বাধীন অংশীদার হিসেবে না দেখে বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
রবিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল ঘোষণা দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, নীতিগত সংস্কার এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি তথ্য বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পরামর্শক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় যে কাঠামোগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে পারে এবং কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই কাজ করতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে গণমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশনকারী মাধ্যম নয়, বরং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং নৈতিক মান বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নিচে আলোচনায় উত্থাপিত প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
মন্তব্য |
| গণমাধ্যম কমিশন গঠন |
তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব |
নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্য |
| পরামর্শক কমিটি |
তথ্য বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা |
নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে |
| নির্বাচনের পূর্ববর্তী কাঠামো |
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়নাধীন |
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার উদ্দেশ্য |
| সরকারের অবস্থান |
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ঘোষণা |
পূর্ববর্তী প্রবণতা থেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি |
আলোচনা সভায় বক্তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, সাংবাদিক সমাজের দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত মান বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের ঘোষিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।