খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
ঢাকা, ২০ এপ্রিল ২০২৬: পাকিস্তান জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদ। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক মাস তিন দিনের মাথায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ১৮ এপ্রিল পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচ হিসেবে ঘোষণা করে। রোববার সকালে পাকিস্তান দলের একটি বহরের সাথে তিনি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
৩৮ বছর বয়সী সরফরাজের এই দ্রুত নিয়োগ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সাবেক ক্রিকেটার এবং বিশ্লেষক কোচিংয়ে তার অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তবে পিসিবি তার সাম্প্রতিক সাফল্য এবং জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অবসরের আগে থেকেই সরফরাজ পিসিবির বিভিন্ন স্তরে নীতিনির্ধারণী ও কৌশলগত ভূমিকায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলেও কাজ করেছেন, যা তাকে বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড টেস্ট দলের কোচিং প্যানেল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারছিল না। জেসন গিলেস্পি দায়িত্ব ছাড়ার পর আকিব জাভেদ এবং পরবর্তীতে আজহার মেহমুদ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর আজহার মেহমুদের সাথে পিসিবি চুক্তি নবায়ন না করায় পদটি শূন্য হয়ে পড়েছিল। অভিজ্ঞ কোচদের ভিড়ে সরফরাজের মতো একজন নবীনকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে তার তৃণমূল পর্যায়ের কোচিং ও তদারকির সাফল্য।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সরফরাজ ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন। এরপরই তিনি পিসিবির বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোচিংয়ের সাথে যুক্ত হন। গত নভেম্বরে তাকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সামগ্রিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণে তার ভূমিকা পিসিবি কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক হিসেবে তার অধীনে পাকিস্তান দল ভারতকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তার কোচিং সক্ষমতার ওপর বোর্ডের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
সরফরাজ আহমেদের খেলোয়াড়ি ও নেতৃত্বের পরিসংখ্যান:
| ফরম্যাট | ম্যাচ | রান | গড় | সেঞ্চুরি/ফিফটি | বিশেষ সাফল্য |
| টেস্ট | ৫৪ | ৩,০৩১ | ৩৭.৪১ | ৪ / ২১ | – |
| ওয়ানডে | ১১৭ | ২,৩১৫ | ৩৩.৫৫ | ২ / ১১ | ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় (অধিনায়ক) |
| টি-টোয়েন্টি | ৬১ | ৮১৮ | – | স্ট্রাইক রেট: ১২৫.২৬ | – |
সরফরাজ আহমেদ কেবল একজন দক্ষ ব্যাটসম্যানই নন, বরং পাকিস্তানের সফলতম অধিনায়কদের একজন। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, যা ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর দেশটির প্রথম বড় কোনো আইসিসি শিরোপা। সমালোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি সাবেক ক্রিকেটারদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও নিজের নতুন এই দায়িত্ব পালনে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই আসন্ন সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিরিজের প্রথম টেস্ট আগামী ৮ মে ঢাকায় শুরু হবে এবং দ্বিতীয় টেস্টটি ১৬ মে সিলেটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরফরাজের অধীনে পাকিস্তান দল এই সফরে নিজেদের অবস্থান কতটা সুসংহত করতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।