খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ মে ২০২৬
একাধিক সফল চলচ্চিত্রের সংগীতায়োজনের মাধ্যমে তরুণ বয়সেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান। তবে সম্প্রতি তিনি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানের কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভক্তমহলে যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি তিনি নতুন করে স্বাধীন সংগীতধারায় মনোযোগী হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘দ্বিতীয় নায়ক’ প্রকল্পের পর তিনি আবারও স্বতন্ত্র সংগীতের পথে ফেরার কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে প্রীতম হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রনির্ভর সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্বিধায় ছিলেন। তার মতে, স্বাধীন সংগীতচর্চাই সবসময় তার শিল্পীসত্তার মূল জায়গা ছিল। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার ইপি-র ধাঁচের কাজ ভক্তরা এখনও মনে রেখেছেন এবং সেই ধরনের কাজের প্রতি তাদের আগ্রহও বেশি। এই প্রতিক্রিয়া তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট ধাঁচের সংগীতে আটকে পড়া শিল্পীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একঘেয়েমি সৃষ্টিশীলতাকে ম্লান করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার নির্দেশনায় কাজ করতে চান না।
‘দ্বিতীয় নায়ক’ প্রকল্পের ধারণা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাজটির মূল ভাবনা ছিল প্রান্তিকতা বা উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি। নুহাশ হুমায়ূনের সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়ায়, তাদের আড্ডাগুলো প্রায়ই কাজকেন্দ্রিক আলোচনায় রূপ নেয়। এমনই এক আলোচনার মধ্য থেকেই এই সংগীতচিত্রের ধারণা জন্ম নেয়।
ভিডিওর কাস্টিং নিয়েও তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। নতুন মুখ মালাইকা চরিত্রের জন্য উপযুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি মীর রাব্বির উপস্থিতি ভিডিওটিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে তার মত। তিনি শিল্পী নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ততা ও বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী ইতোমধ্যেই কাজ করছেন এবং তাদের যথাযথ সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জি এম আশরাফ, জাহিদ নিরব এবং অঙ্কন কুমারের মতো শিল্পীরা দেশের সংগীতকে সমৃদ্ধ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, স্বাধীন ধারার সংগীতশিল্পীদের আরও এগিয়ে আসা দরকার।
নিচে আলোচিত প্রধান ব্যক্তিত্ব ও প্রকল্পের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান শিল্পী | প্রীতম হাসান |
| পরিচালক ও সহযোদ্ধা | নুহাশ হুমায়ূন |
| সংগীতচিত্র | দ্বিতীয় নায়ক |
| গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়শিল্পী | মালাইকা |
| উল্লেখযোগ্য অভিনয়শিল্পী | মীর রাব্বি |
| সমকালীন সংগীতশিল্পী | জি এম আশরাফ, জাহিদ নিরব, অঙ্কন কুমার |
সাক্ষাৎকারের সার্বিক বক্তব্যে প্রীতম হাসান স্পষ্ট করেন, সংগীতজগতে টিকে থাকতে হলে নিয়মিত পরিবর্তন ও নতুনত্বের প্রয়োজন। একই ঘরানায় আটকে থাকলে সৃষ্টিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই তিনি ভবিষ্যতে আরও স্বাধীন ও বৈচিত্র্যময় সংগীতচর্চায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তার শিল্পীজীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।