খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে সরকার আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্যোগ অনুযায়ী, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের একটি খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত রূপ পাবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার বর্তমানে দুটি বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করছে। প্রথমটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, আর দ্বিতীয়টি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন ও ভাতা সমন্বয় করা।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পুরো কাঠামোর আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে সুপারিশ প্রদান করবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধিতে। বাকি অংশ ব্যয় হবে পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।
প্রস্তাবিত আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমান অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশন খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এছাড়া উন্নয়ন ব্যয়ে কিছু কাটছাঁট এবং রাজস্ব বাজেটে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড থাকবে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিচে সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত অবস্থা |
|---|---|---|
| সর্বনিম্ন মূল বেতন | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| সর্বোচ্চ মূল বেতন | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা |
| গ্রেড সংখ্যা | বিদ্যমান কাঠামো | ২০টি গ্রেড |
| বাস্তবায়ন পদ্ধতি | ধাপে ধাপে সমন্বয় | তিন ধাপ বা দুই অর্থবছর পরিকল্পনা |
| অতিরিক্ত ব্যয় | প্রযোজ্য নয় | প্রায় ১,০৬,০০০ কোটি টাকা |
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। এদের জন্য সরকার প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ২০১৫ সালে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যেখানে প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়। নতুন কাঠামোও একই ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।