খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার, ৪ মে ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যার দিকে বরিশাল নগরীর আমতলার মোড় সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এই প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের একটি বড় অংশ নগরীর আমতলার মোড়ে সমবেত হন। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মীদের বাদ দিয়ে এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস এবং জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। এতে করে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকার পর স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় এবং আশ্বাসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল কর্মীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা আসাদুল্লাহ হাওলাদার এবং রেদওয়ান খান রাকিব গণমাধ্যমকে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানান। তাঁরা দাবি করেন যে, দলের অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে তাঁরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমান সরকারের আমলে একাধিক রাজনৈতিক মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
আসাদুল্লাহ হাওলাদার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন:
“আমরা দলের দুঃসময়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থেকেছি। হামলা-মামলা এবং জেল-জুলুম সহ্য করেও মাঠ ছাড়িনি। অথচ সদ্য ঘোষিত মহানগর ছাত্রদলের কমিটিতে আমাদের মতো ত্যাগীদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
নেতৃবৃন্দ আরও জানান যে, তাঁরা নবগঠিত কমিটির অস্তিত্বকে সরাসরি অস্বীকার করছেন না, বরং তাঁদের দাবি হলো—যাঁরা নির্যাতিত এবং মাঠের সক্রিয় কর্মী, তাঁদের এই কমিটিতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান যে, ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কমিটি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কিছু নেতা-কর্মী আমতলার মোড়ে জড়ো হয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন:
“আমতলার মোড়ে পদবঞ্চিত ছাত্রদলের কিছু কর্মী জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই নেতা-কর্মীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।”
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। নবগঠিত কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া এবং অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তৃণমূল পর্যায়ে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটে ছাত্রদলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি অতি দ্রুত তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা না হয়, তবে তাঁরা পুনরায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সুরাহা করার আশ্বাস দিলেও কর্মীদের মধ্যে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কমিটি সংশোধন বা সম্প্রসারণ না হওয়া পর্যন্ত এই অসন্তোষ নিরসনের কোনো কার্যকর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সেলে লিখিতভাবে অবহিত করবেন এবং তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমতলার মোড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।