খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী রায়হান চৌধুরী (৩০) নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে। পরিবারের দাবি, রায়হান গত ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে শামীমসহ একটি দালাল চক্র রায়হানকে বিনা খরচে ইতালিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। তাদের দাবি ছিল, রায়হানের জন্য ফ্রি ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে বিশ্বাস করে রায়হান বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরিবারের পক্ষ থেকে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়ে দালাল চক্রটি ধাপে ধাপে প্রায় ১২ লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরে আরও অর্থ নেওয়ার পর রায়হানকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে লিবিয়ায় আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় নেওয়ার পর রায়হানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে উদ্ধারের আশায় তারা জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেন। এ সময় ভিডিও কলে রায়হানের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও কলে দেখা যায় তার একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, এখন পর্যন্ত মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও রায়হানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তরা আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা পরিশোধ না করলে তার হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নবীগঞ্জ থানায় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি আবু তাহের চৌধুরী মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং এরপর থেকেই রায়হানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, মামলা করার পর থেকে তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিডিও কলে ছেলের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোনায়েম মিয়া জানিয়েছেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | রায়হান চৌধুরী (৩০) |
| বাড়ি | বেতাপুর গ্রাম, আউশকান্দি ইউনিয়ন, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ |
| প্রলোভন | ফ্রি ভিসায় ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি |
| প্রথমে নেওয়া অর্থ | প্রায় ১২ লাখ টাকা |
| অতিরিক্ত আদায় | ১৫ লাখ টাকা |
| মোট পরিশোধ | ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা |
| নতুন দাবি | আরও ২৫ লাখ টাকা |
| মামলা দায়ের | ১৫ ফেব্রুয়ারি, মানবপাচার আইনে |
| তদন্তকারী সংস্থা | সিআইডি |