চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং অপহরণের অভিযোগে রাউজান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা এক চিকিৎসকের মামলার পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত সোমবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাখাওয়াত হোসেন এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, উপপরিদর্শক টোটন মজুমদার, উপপরিদর্শক শাফায়েত আহমদ, এবং পাইওনিয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ফজল করিম (বাবুল), পরিচালক মনজুর হোসেন ও তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মামলার বাদী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। ওই সময় উপপরিদর্শক টোটন মজুমদার সেখানে উপস্থিত হয়ে উপজেলা পর্যায়ের একটি রাজনৈতিক কমিটিতে নাম থাকার বিষয় উল্লেখ করে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এরপর সাদা পোশাকে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাড়িচালক রাসেলের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আদালতে হলফনামা দিয়ে জানান, চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে তিনি চেনেন না এবং তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে বাদী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে নির্দেশ দেন।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| মামলার ধরন |
চাঁদা দাবি, অপহরণ ও মিথ্যা মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ |
| বাদী |
চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম |
| মামলা দায়ের |
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
| ঘটনার সময়কাল |
১৫ এপ্রিল ২০১৫ |
| আসামির সংখ্যা |
৬ জন |
| আদালতের আদেশ |
পুনঃতদন্তের নির্দেশ |
| তদন্ত সংস্থা |
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ |
চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, মামলার পর থেকে দীর্ঘ সময় তিনি পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় তদন্ত পর্যায়ে গিয়েছে, যা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।