খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর এলাকায় সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩)। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামক ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ফারিহা কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সাথে ফারিহার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয় উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে চীনে গমন করেছিলেন। তবে সেখানে সফল হতে না পেরে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর থেকেই মেহেদী হাসান বেকার ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্বামীর বেকারত্ব এবং সাংসারিক ভরণপোষণকে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। গত সোমবার ফারিহা তার বাবার বাড়ি থেকে কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় আসেন। এর মাত্র এক দিন পরই তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়।
বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ ভবনের ২/এ ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | জান্নাতুন নাঈম ফারিহা (২৩) |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিএসই বিভাগ) |
| পিতার নাম | মো. হানিফ মিয়া (পেশায় শিক্ষক) |
| স্বামীর নাম | মেহেদী হাসান হৃদয় |
| ঘটনার স্থান | কাশেম গার্ডেন, ২/এ ফ্ল্যাট, মনোহরপুর, কুমিল্লা |
| মৃত্যুর তারিখ | ৫ মে, ২০২৬ (মঙ্গলবার দিবাগত রাত) |
| মরদেহ উদ্ধার | ৬ মে, ২০২৬ (পুলিশ কর্তৃক দরজা ভেঙে উদ্ধার) |
| ময়নাতদন্তের স্থান | কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ |
নিহতের পিতা মো. হানিফ মিয়ার দাবি, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিয়ের পর থেকেই ফারিহার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি হৃদয় ইতিপূর্বে ফারিহাকে মেরে জেল খাটার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। ফারিহার স্বপ্ন ছিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, যা অকালেই সমাপ্ত হলো। নিহতের পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের ফারিহাকে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে এই ঘটনার তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবার বর্তমানে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।