জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড়ের পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার অন্তত ৭৫টি গ্রাম বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঝড়ের তীব্রতায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে এবং বহু স্থানে খুঁটি ভেঙে যায়। কয়েকটি এলাকায় বড় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আবার কোথাও কোথাও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো ফিডার লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে সন্ধ্যার পর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরা। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক পরিবার ও ব্যবসায়ী। এছাড়া গরম আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
ঝড়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আক্কেলপুর পৌর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। হাস্তাবসন্তপুর, পালপাড়া, জিয়ানীপাড়া, শ্রীকৃষ্টপুর ও শান্তা মহল্লাসহ একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
পালপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মাহমুদুর রহমান বলেন, তাঁদের এলাকার আলাদা সেকশনের কারণে এখনো বিদ্যুৎ আসেনি, যদিও কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রয়েছে। তিনি জানান, বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের বাসায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রায়কালী ইউনিয়নের মালীগ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, ঝড়ের পর থেকেই তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ঝড়ের পর থেকে পুরো ইউনিয়নেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
আক্কেলপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালবৈশাখীর কারণে অন্তত ৪৫টি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের বিভিন্ন অংশে মেরামতকাজ চলছে এবং মাঠপর্যায়ে একাধিক দল কাজ করছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে জানান, আক্কেলপুর পৌরসভার আংশিক এলাকা এবং রুকিন্দীপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। দ্রুত লাইন সচল করতে মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
| বিষয় |
তথ্য |
| ঝড়ের সময় |
বুধবার বেলা সোয়া ১টা |
| বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গ্রামের সংখ্যা |
প্রায় ৭৫টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক |
প্রায় ৩০ হাজার |
| ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের খুঁটি |
অন্তত ৪৫টি |
| আংশিক বিদ্যুৎ চালু |
ঝড়ের প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর |
| ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা |
হাস্তাবসন্তপুর, পালপাড়া, জিয়ানীপাড়া, শ্রীকৃষ্টপুর, শান্তা মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকা |
| মেরামত পরিস্থিতি |
একাধিক দল মাঠে কাজ করছে |