Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
বগুড়া জেলা শহরে এক তরুণীকে পথরোধ করে এবং পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় রবিবার দিবাগত গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন অর্থাৎ রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। সোমবার সকালে গণমাধ্যমকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম ও পরিচয় এবং এই মামলার প্রাথমিক বিবরণ নিচে একটি ছকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হলো:
| মামলার মূল বিষয় ও বিবরণ | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থান এবং সময়কালের সুনির্দিষ্ট তথ্য |
| প্রধান গ্রেপ্তারকৃত আসামি-১ | কাওছার (১৯), পিতা: রায়হান, ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামি-২ | বাধন (১৯), পিতা: মৃত হাতেম আলী পাইকার, ফুলবাড়ী দক্ষিণ পাড়া |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামি-৩ | রকি (১৯), পিতা: গোলাম রব্বানী, উত্তর কাটনারপাড়া |
| অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান | ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাট রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন ভবন |
| অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় | রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর |
| প্রাথমিক উদ্ধারকারী কর্মকর্তা | উপ-পরিদর্শক আনাহার হোসেন, ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি |
| মামলার বর্তমান অবস্থা | বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের এবং আসামিদের আদালতে প্রেরণ |
পুলিশের কাছে দায়েরকৃত মামলার এজাহার ও প্রাথমিক বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সাথে অভিযুক্ত যুবকদের পূর্ব থেকে চেনা-জানা এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। রবিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই তরুণী বগুড়া শহরের পুলিশ প্লাজা নামক বিপণিবিতানের সপ্তম তলায় অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই অভিযুক্ত কাওছার, বাধন, সাদিক এবং অজ্ঞাতনামা অপর একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারা সবাই মিলে একসাথে মদ্যপান করার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি স্থানীয় হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন।
মদ সংগ্রহের পর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তারা সবাই ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের সংলগ্ন শ্মশানঘাট রাস্তার পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ও নির্মাণাধীন পুরাতন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে রকি নামের আরও একজন অভিযুক্ত যুবক তাদের সাথে এসে যোগ দেন। ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে মদ্যপান করার একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবকেরা জোরপূর্বক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শেষ হওয়ার পর অভিযুক্ত বাধন ওই তরুণীকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দুজনে শহরের একটি বড় বাজারের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে ভুক্তভোগী তরুণী চিৎকার শুরু করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানান। তরুণীর চিৎকার শুনে উপস্থিত লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে অভিযুক্ত বাধন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে বগুড়া সদর থানার অধীনে থাকা ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনাহার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার রাতেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং এই অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হবে।