খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় অপহরণের দুই দিন পর তিন বছর বয়সী শিশু উম্মে হানিকে জীবিত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে মাত্র চার হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার সাহেব বাজার গেট এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিবপুর থানা পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সমন্বিত অভিযানে এই সফলতা আসে। অভিযান শেষে অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশু উম্মে হানি শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কামরাব নোয়ারা গ্রামের ইব্রাহিম মোল্লার কন্যা। পরিবারটি শিবপুর কলেজপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। পরিবারের দাবি, একই ভবনে বসবাসের সূত্রে শরিফা খাতুন নামের এক নারীর সঙ্গে তাদের পরিচয় গড়ে ওঠে। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তিনি শিশুটিকে বাইরে ঘুরতে নেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
শিশুটির মা জানান, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারটি আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে। কোনো সন্ধান না পেয়ে একই দিন শিবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করা হয়। অভিযুক্তরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন চুনারুঘাট উপজেলার নতুন বাজার বাগবাড়ী গ্রামের নিজাম উদ্দিন এবং তার স্ত্রী শরিফা খাতুন। অভিযোগ অনুযায়ী, শরিফা খাতুন শিশুটিকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং তার স্বামী নিজাম উদ্দিন এতে সহযোগিতা করেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিশুর বয়স | ৩ বছর |
| শিশুর নাম | উম্মে হানি |
| অপহরণের স্থান | শিবপুর, নরসিংদী |
| অপহরণের সময় | শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টা |
| উদ্ধার স্থান | সাহেব বাজার গেট এলাকা, মাধবপুর |
| উদ্ধার সময় | রোববার রাত সাড়ে ১১টা |
| প্রধান অভিযুক্ত | শরিফা খাতুন |
| সহ-অভিযুক্ত | নিজাম উদ্দিন |
| বিক্রির অর্থ | ৪ হাজার টাকা |
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সহায়তায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত অপহরণ ও মানব পাচার চক্রের অংশ হতে পারে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং শিশুটিকে কোথায় ও কার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভাড়া বাসায় অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।